Showing posts with label হিজিবিজি. Show all posts
Showing posts with label হিজিবিজি. Show all posts
Tuesday, March 22, 2016

রম্যঃ বাঙ্গলি দ্যা গ্রেট


মাদাম তুসোর এক মূর্তি নির্মাতা কর্মীর সাথে কথা হচ্ছিল এক চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ারের।

তুসোর কর্মীঃ এসো আমাদের যাদুঘরে, বিশ্বের সকল জনপ্রিয় মুখ গুলির সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেব।

চৈনিক ইঞ্জিনিয়ারঃ সেখানে আর এমন কি দেখার আছে? কতগুলি মানুষের আকৃতিকে তোমরা মমের উপর গড়েছ। কৃতিত্ব দেখানোর মত তো সেখানে কিছুই নেই!

তুসোর কর্মীঃ আচ্ছা! তাই বুঝি! তা তোমরা কি 'হেন' করেছ শুনি?

চৈনিক ইঞ্জিনিয়ারঃ তার আগে বল 'হেন' কি নেই যেখানে চৈনিক ছোঁয়া নেই। মমের গঠন এবং গলন নিয়ন্ত্রণে যে মেশিন গুলো তোমরা ব্যবহার কর সেটাও তো তোমরা আমাদের কাছ থেকেই নাও।

তুসোর কর্মীঃ তোমাদের দৌড় তো ঐ পর্যন্তই। নকল করে বেড়াও
Read More »
Monday, February 15, 2016

মানুষের মধ্যে বাস যে দেবী’র


দেবী, যে কল্পলোকের অপ্সরী নয়।
সে দেবী, অনাহুতের রক্ষাকারী। যে চোখে চোখে রাখে বিপদে পড়া মানুষকে। চরম বিপদের মুহূর্তে তার হাতটি বাড়িয়ে দেয়। সে দেবী, যে মূর্তির মূর্ত অবস্থা থেকে বের হয়ে আসে তার প্রার্থনাকারীকে আগলে রাখতে।

এমনই এক দেবীর সাথে পরিচয় ঘটবে এই উপন্যাসটিতে। যেখানে দেবী বলতেই আমাদের মনের আঙ্গিনাতে একটা মূর্তির রূপ চলে আসে সেখানে দেবীকে দেখা যাবে মানুষের ভেতরে, মানুষের জন্যে।
মিসির আলি সাহেব চেষ্টা করেছেন এই দেবীকে আবৃত করে রাখা রহস্যের কুয়াশাকে ভেদ করে তার যুক্তি উপস্থাপন করতে। হয়তো তিনি পেরেও যাবেন, কিংবা যুক্তি উপস্থাপনের মাঝেই তাকে থেমে যেতে হবে। কি হবে তা জানা যাবে উপন্যাসেই।

এখানে দুটো আলাদা আলাদা পরিবেশে থাকা মেয়ের দেখা পাওয়া যাবে। যার একজন গ্রাম থেকে শহরে এসেছে স্বামীর হাত ধরে। আর অন্যজন এই শহরেই বড় হয়েছে। কিন্তু কোন অদ্ভুতভাবে তাদের মাঝে একটা যোগসূত্র তৈরি হবে। সেই যোগসূত্র ধরেই এগিয়ে যাবে গল্প একদম শেষ পর্যন্ত।

এর মাঝে রানু নামের মেয়েটির স্বামী স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সাহায্য চাইবে মিসির আলি সাহেবে। সেখানেই পাঠক খুঁজে পাবেন এক অদ্ভুত মানুষের। যে মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে না, অথচ কোন একজন কেউ বিপদে আছে বুঝলে সে ঠিকই তার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে তাকে সহায়তা করার। চেষ্টা বলতে শুধুই চেষ্টা বললেই হয়তো কম হয়ে যাবে। বলা উচিৎ প্রাণপণ চেষ্টা করবে। অথচ যার জন্যে এই চেষ্টা, এই কষ্ট করা তার সাথে ব্যবহারটা হবে পুরোপুরি বিপরীত। তখন দেখা যাবে মিসির আলি যেন ঐ ব্যক্তিটির সাথে দায়সারা ভাবে কথা বলছে, যেন ব্যক্তিটি দ্রুত চলে গেলেই তিনি হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন।

ওদিকে নীলুর এক অজানা মানুষের জন্যে নিজের ভেতর একপ্রকার উতলা অনুভূতি জন্ম নেবে। ছোট বোনের পাশে থেকে যে হীনমন্যতায় ভুগে আসছিল সেই ছোটবেলা থেকে সেই হীনমন্যতা এই অজানা অচেনা মানুষের বিপরীতে এক আকর্ষণ শক্তি হিসেবে কাজ করবে তার মনে। কিন্তু এই ব্যাপারটি সে কারো সাথেই বলতে পারবে না। নিজের অনুভূতির শক্তি যাচাই করার জন্যে নিজ প্রফেসর মিসির আলির কাছে গিয়েও নিজের এই অসহায় অবস্থার কথা বলতে পারবে না। অথচ কিছু না বলার পরও দেবী ঠিকই বুঝে নেবে। যে বিপদের নীলু এগিয়ে যাচ্ছে, সে বিপদ হতে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে দেবী।

গল্পটা পড়ার সময় যতটা বেশি রোমাঞ্চ কাজ করবে তারচেয়েও বেশি আকর্ষণ করবে পরবর্তী ধাপে কি হয় সেটা জানার। এটা এমন একটা গল্প যেখানে খুব সাধারণ কিছু মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা আমাদের আশে পাসেই বসবাস করে। অথচ তাদের মাঝেই যে অসাধারণ কিছুর বসবাস সেটা গল্পের মাঝেই দেখাবেন গল্পকার। জানা যাবে ঐ সময়কার শহর আর গ্রামের মানুষ গুলির ভিন্ন ভিন্ন মানসিক অবস্থা।


শেষ পর্যন্ত কিভাবে দেবী এই মানুষের রূপে মানুষের জন্যেই এগিয়ে আসে তা জানা জানতে আপনাকে গল্পের শেষ পর্যন্ত আকর্ষণ করে যাবে।


দেবী গল্পটি পড়তে হলে প্রদত্ত লিংক গুলোতে দেখুন-
লিংক ১ || লিংক ২ || লিংক ৩


Read More »
Tuesday, December 1, 2015

সম্প্রতি দেখা মুভিঃ Hotel Transylvania 2

সম্প্রতি দেখা মুভিঃ Hotel Transylvania 2



বেশ অনেকদিন অপেক্ষার পর গতকাল Hotel Transylvania 2 দেখলাম।

শুরুটা as expected চমৎকার ছিল। কিন্তু ঘটনা যতই শেষের দিকে যাচ্ছিল ততই আশাহত হচ্ছিলাম। নিঃসন্দেহে “Hotel Transylvania” ড্রামাটিক, রোমান্টিক এবং দারুণ কমেডি নির্ভর মুভি ছিল। কিন্তু এর সিক্যুয়াল হিসেবে এই পর্বে ড্রামাটিক এনিমেশন থাকলেও কমেডি আর রোমান্টিসিজম অনেকাংশেই অনুপস্থিত ছিল।

Adam Sandler নিজে চমৎকার একজন কমেডি অভিনেতা। আর সেই ধারাই বজায় ছিল এই এনিমেশন মুভির প্রথম পর্বটিতে। কিন্তু দ্বিতীয় খণ্ডে এসে তার সেই কমেডি ধাঁচের দুষ্টামিতে অনেকটাই ভাটা পড়েছিল।

ড্রাকুলারের মেয়ে চরিত্র ‘Mavis’ এখানে চমৎকার মনে হয়েছে। সে একই ধারে বাবা’র মেয়ে হিসেবে ভালোবাসায় সিক্ত এবং তার সন্তানের জন্যে অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়েছে। মুভিতে সে তার সন্তানকে নিজের মত করে ‘স্বাভাবিক’ করে বড় করার জন্যে সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই সিদ্ধান্ত অনুসারেই সে তার বাবার হোটেল তথা ‘ড্রাকুলা অরণ্য’ ছেড়ে তার স্বামী ‘Jonathan’ এর শৈশব কাটানো শহরে ছুটে যায়। নিজে থেকে সন্তানের জন্যে একটা নিরাপদ ভুবন নির্বাচনের জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠে। চরিত্রের এই অংশটাই এই মুভির মুল আকর্ষণ মনে হয়েছে। যেখানে সে নিজে ড্রাকুলা হয়েও মন থেকে নিজের সন্তানকে একজন ‘মানুষ’ রূপে সে দেখতে চেয়েছে। নিজের অস্তিত্বকে তার সন্তানের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেনি।

‘Jonathan’ এই মুভিতে নায়কের ভূমিকায় থাকলেও তাকে সবসময়ই আমার সহায়ক চরিত্র হিসেবেই মনে হতো, এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাকি চরিত্রদের মধ্যে এইবারে ঘটনার প্রেক্ষিতেই বেশ স্বাভাবিকতা দেখা গেছে। কিন্তু তারা সবই নিজেদের ভয় দেখানোর ক্ষমতা হারিয়েছে। তবে সেইটা নিয়ে নিজেদের মাঝে কোন ধরণের আক্ষেপ দেখা যায়নি, বরং এই ব্যাপারটাকেই তারা বেশ উপভোগ করেছে।

শেষ অংশটাতে পরিবারের বন্ধনটাকেই বড় করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরিবার, তা যেমনই হোক, যত রকম ভিন্নতাই থাকুক না কেন এদের মাঝে, দিন শেষে সবই পরিবারের সদস্য। আর এই ব্যাপারটাই মুভির শেষে আরও একবার স্পষ্ট করে বুঝতে পারবে দর্শকেরা।

যাই হোক, আশানুরূপ নাহলেও মুভিটি একেবারেই ফেলে দেবার মত নয়। তবে কেউ যদি আমার মত মুভিটার প্রথম খণ্ডের মত চমৎকার কমেডি মুভির জন্যে মুখিয়ে থাকে তারা মুভিটি দেখার পর কিছুটা হলেও হতাশ হবে। তবে কেউ যদি দেড় ঘণ্টা নষ্ট করে মুভিটা না দেখে তবে সে প্রকৃত অর্থেই অনেক কিছুই মিস করে যাবে।


Read More »
Tuesday, October 27, 2015

অসমাপ্ত স্বপ্ন



বুলেটটা ছুটে আসছে অসম্ভব দ্রুত গতিতে, ঠিক যেমনি করে বুলেটটির ছোটার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক মনে হলেও আমি বুলেটটির এগিয়ে আসার প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট দেখতে পারছি। ইচ্ছে করলেই ছুটে গিয়ে আমি এখন বুললেটির গতি পরিবর্তন করে দিতে পারি, কিংবা নিজে সরে গিয়ে বুলেটের আঘাত করার রেঞ্জের বাইরে চলে আসতে পারি। অবিশ্বাস্য হলেও আমার এখন এর কোনটিই করতে ইচ্ছে করছে না। ভেতর থেকে আমি প্রস্তুত ছিলাম, এটা যে হবেই তা আমার জানা ছিল। কিংবা বলা যেতেই পারে এটা আমার স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে পরখ করার মত একটা বিষয়। কিংবা তোমাদের চোখে যা আত্মহত্যা, আমি সেটাই করছি এই মুহূর্তে…
Read More »
Friday, October 2, 2015

ব্লু স্ক্রিন অফ ডেথ মেসেজ বাংলায় [ফান পোষ্ট]

Windows অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন কিন্তু একবারের জন্যেও Blue Screen of Death জিনিষটা কারও সামনে আসেনি, এমন লোক বোধ করি স্যাটেলাইট দিয়ে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। Windows অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আপনি গ্রহান্তরী হয়ে যান, তবুও উইন্ডোজ ব্যবহারকারী হিসেবে আপনাকে অন্তত একবার হলেও এই নীল স্ক্রিন দেখতেই হবে।

আর যদি এমন কোন ব্যক্তিকে অলৌকিক ভাবে পাওয়া যায়, তবে Microsoft এর উচিৎ উক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা দিয়ে এই অসম্ভব কিভাবে সম্ভব হয়েছে তা তার কাছ থেকে খুব গোপনে জেনে নেয়া।

যাই হোক, ব্লু স্ক্রিন ডেথ যদি আমাদের বাংলা ভাষায় একটু দুষ্টামি করে কেউ লিখে দিতো তাহলে তার অবস্থা কেমন হত তার কয়েকটি নমুনা তৈরির চেষ্টা করলাম।



  নমুনা – ১



একখান পরবলেম পাওয়া গেছে আর হিল্লিগ্গাই আপ্নের জানালাডা বন্ধ কই দিছি, যাতে এই পরবলেমের লাগি আফনের কম্পুটারের কুনু ক্ষতি না অয়।

যাইগ্যা সেই কতা, এই ঘটনা যদি আফনে জিন্দিগির পরথম বার দেইখ্যা থাকেন তইলে এত্ত টেনশন লওনের কিছু নাই। মাথাডা ঠাণ্ডা করি কম্পুটারডা রিইসটাট মারেন, সব ঠিক হই যাবো। মাগার তারফরেও যদি সমস্যাডা প্রবলেমের মত করি পিছে পিছে আইতে থাকে তইলে নিচে যেবা করি কইচ্ছি সেবা সেবা করি কাম করেনঃ

বেবাক্তের আগে চেক করুইন যে আফনের হাড্ডিস্কো জায়গা জিরাত কিছু হইলেও বাকি আছে, আর না থাইকলে কিছু কিনি লন। তারফর চিন্তা করি দেখুইন যে আফনে নয়া নয়া কুনু ডেরাইভার আফনের কম্পুটারো লাগাইছুইন কি না। লাগাই থাইকলে সেইডারে আফডেট করুইন ঠিকঠাক মত। আর তারফরেও যদি সমস্যা দেহা যায়, তইলে আফনের ভিড্যু কার্ডটা খুইল্যা নয়া একখান লাগাই দেখবার পারেন।

এরফর ধরুইন যদি এই ঘটনাডা যাইবার না চায় তইলে আফনের কম্পুটারের বাসাস নামের জিনিষটারে একটু চেক করুইন। আফনের বায়াস মেমরীত যদি আগেত্থুন ক্যাশিং বা ছায়াযুক্ত ঘটনা চালু কইরা থাকুইন তইলে দৌড়াই ঐসব বন্ধ করুইন যে। তবে এইসব অকাম করণের লাগি যদি কম্পুটারের জানালা গলাই নিরাপদে একটু ঢুইক্কা দেখন লাগে তইলে কম্পুটারডা রিইসটাট মারি কিবুডেত্থুন ফাংশুনের ৮ নুম্বুর বাটুনডা চাপতে থাকুইন। দেখবেন ফাংশুনের ৮ নুম্বুর বাটুন চাপুনের ফরে একখান নয়া মেনু আইবো, ঐখানেত্থুন টিপ মারি ফেইফ মুড চালু করি ফালাইবেন।

ফ্রযুক্তিগত তইথ্য গুলা হইলঃ
*** থাম ব্যাটা পাকনাঃ ০ গুন ০০০০০০ “৮” এর “ই”

ময়লার ডিব্বার হিসাব কিতাব শুরু করি শেষও হই গেছে।
এইসব আকডুম বাগডুম কতা আফনের সিস্টেমের মাতাব্বরের কাছে কইন,
হেতে চুখ বন্ধ করি সিসটেমের রিইসটাট বাটন চাপি সব ঠিক করি ফেইলবো।



নমুনা – ২



আফনের কম্পুটারুর জানালাত এগ্গান ফ্রুবলেম চলিচ্ছিল। আফনেরে ঐডার হাতেত্থুন বাঁচানির লাগি আফনের কম্পুটারডা মুই বন্ধ করি দিছি। সেই বিজাইত্তা এই ফ্রবলেমডা করিচ্ছিল ঐডার নাম হইলঃ খবিসকাআওলাদ.ওয়াই-এর-দুই-পাশে-এস

ব্যবহারকারী-সূচিত-পরিবর্তনে-বিপর্যস্ত

আফনে মনে হয় এই সমস্যাডা এই পরথম দেখতেছেন। আমি থাইকতে আফনের চিন্তার কিস্যু নাই, খালি কম্পুটারডা রিইসটাট মারেন। মাআর বেয়াদ্দপ সমস্যাডা যদি তারফরেও না যায় তইলে নিচের কথামত কাম করি যানঃ

বেবাক্তের আএ আমারে কানে কানে কইনচেন দেহি, আফনে কি আফনের কম্পুটারো আমারে না বলি কুনু যন্তরপাত্তি লাগাইছেন না কি? আর টনা যদি ইরাম না হই তইলে চিন্তা করি দেখুইন তো, আফনের জানালায় নতুন কুনু রঙ মানে ফ্রোগ্রাম ইন্সটল দিছিলেন কি না? যদি ইরাম কিছু করি থাকেন তইলে বেবাক্তের আএ এই বাজে জিনিষ গুলি যেইসব বেয়াদপ বানাইছে ওগোর কাছেত্থুন এইগুলির আপডেট যুগার করেন। তারপর দেখবেন ঐসব আপডেট কম্পুটারের জানালাত লাগানি মাত্তর সমস্যা সব দৌড়াই পালাইবো।

মাগার ঘটনা যদি ইরাম কিছু না হয় বা উফরের কাম করনের ফরেও সমস্যা ফিরা ফিরা আই ফরে তইলে ঐসব বাজে যন্তরপাত্তি আফনের কম্পুটারেত্থুন খুলি হালাই দেন। আফনের বায়াস মেমরীডারে কন ঠিকঠাক মত কাম করতি। আর কথা না শুনলে হেতের কানে ধরি ক্ষেমতা কমাই আগের মত করি দেন।

ফ্রযুক্তিগত তইথ্য গুলা হইলঃ
*** থাম ব্যাটা পাকনাঃ ০ গুন ০০০০০০ “ই” এর “২”
*** খবিসকাআওলাদ.ওয়াই-এর-দুই-পাশে-এস – এর ঠিকানা লই গন্ডোগোল লাগিচ্ছে সিস্টেমের ভিত্তে।



নমুনা – ৩


  
  
জানালার ভিত্তে এই বাজে প্রোগ্রামডা বিরক্ত করবার লাগছিল, তাই বিরক্ত হই জানালা বন্ধ করি দিছি

* অখন আফনের যদি ঐ বদ ফ্রোগ্রামডার প্রতি দরদ উথলাই উঠে তইলে পরে এস্কেপ বাটন চাপি আবার জানালাডা খুলি দেন।

* মাগার আমার মত আফনেরও যদি মনে অয় ফ্রোগ্রামডা বিজাইত্তা আছিল তইলে কিবুডেত্থুন এন্টার চাপি ফ্রোগ্রামডা বন্ধ করি দেন। তয় মনে রাইখ্যেন, আফনে যদি ঐ ফ্রোগ্রামডার লগে এর মইধ্যে কুনু লেনদেন করি থাকেন তইলে ঐডার হিসাব কিন্তু এন্টার টিপনের লগে লগে হারাই যাইবো।

* এইতা যদি বেশি ভেজাইল্লা অয় তইলে কিবুডেত্থুন কন্ট্রোল পিলাস অলটার পিলাস ডিল বাটুন গুলি একলগে চাইপবার পারেন। তয় কথা কিন্তু আগেরডাই, জানালার মইধ্যে ঐ বিজাইত্তা ফ্রোগ্রামের লগে যেই সব লেনদেন করছিলেন তার হিসাব কিন্তু আমি দিবার পারুম না, এইডা আমার সাফ কতা।



তো আর দেরি কিল্লাই! তাত্তারি কিবুডেত্থুন এন্টার চাপি দেন,
আর তা না হইলে এস্কেপ চাপি বদ প্রোগ্রামডা চালু করি লন দ্রুতঃ অকা?





ছবি এবং তাতে ব্যবহৃত কথা গুলি নিতান্তই দুষ্টামির খাতিরে লিখেছি, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়। আশা করছি মজা করেই সবাই ব্যাপারটাকে গ্রহণ করবেন।

সকলের জন্যে শুভকামনা :)



Read More »
Tuesday, August 4, 2015

অন্ধকারের মানুষের আত্মকথা



দিনের আলোর সাথে এখন আর আমার কথা হয় না। আলোর অহমিকায় দিন বরাবরই স্বার্থপরের মত আচরণ করে গেছে এই আমার সঙ্গে। আমি যতবারই আলোক উজ্জ্বল দিনকে আমার কথাগুলি বলেছিলাম, ঠিক ততবারই সে আমার কথা গুলি অন্য সকল কথার আড়ালে লুকিয়ে নিয়েছে। আমি অবাক হয়ে দেখেছি ঐ শত সহস্র কথার ভিড়ে আমার কথা গুলিকে হারিয়ে ফেলতে, আমাকে হারিয়ে ফেলতে।
আমি এখন রাতের সাথে কথা বলি। রাতের কাছে আলো না থাকতে পারে কিন্তু তার সংগ্রহে থাকা স্নিগ্ধতা নিয়ে সে কখনোই বড়াই করে বেড়ায় নি। বরং আগ্রহী শ্রোতার মত নীরবে সে আমার কথা গুলি শুনে গেছে খুবই মনোযোগ দিয়ে। কখনোই কোন কথা শুনে বিরক্তি ভাব ফুটিয়ে তোলেনি, কিংবা বৈরি মনোভাবের প্রকাশ ঘটাবার অবকাশ দেয়নি।
বরাবরই যখন আমার কথা ফুরিয়েছে তখন সে বিদায় নিয়েছে আলগোছে। আমার দুঃখ গুলি, বিষণ্ণতায় ভরা কথা গুলি, আমার কষ্ট গুলি, অপূরণে পরিপূর্ণ অনুভূতির অভিব্যক্তি গুলি সে বয়ে বেড়িয়েছে দুনিয়ার এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে। সারা দুনিয়া খুঁজে ঐসবের বিপরীতে আমার জন্যে কুড়িয়ে নিয়ে এনেছে প্রশান্তি। আত্মতৃপ্ততায় সিক্ত করে আবারও আমার জমে থাকা কথা গুলি শুনতে বসে পড়েছে গা ঘেঁষিয়ে।
কখনো কখনো তার এইসব কাণ্ডকারখানা দেখে বিরক্তও হয়েছি। নিজের ক্ষোভ ঢেলে তার স্নিগ্ধতাকে তিরস্কার করেছি। অপমানের ষোলকলা পূর্ণ করে দূর দূর করে তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছি। তার দেয়া উপহারের আত্মতৃপ্তিকে রাজপথে ঢেলে দিয়ে আমার নোংরা নগ্ন পায়ে মাড়িয়ে দিয়েছি তারই সামনে। উপহাস করেছি তার এই বোবা অস্তিত্বকে নিয়ে।
এতকিছুর পরেও সে তার মনে বিদ্বেষ নিয়ে ফিরে আসেনি, আনে নি কোন পরিবর্তন তার কোমলিয়তায়। কেড়ে নেয়নি তার দেয়া উপহারের ঐ আত্মতৃপ্তিগুলিকে, ছুড়ে দেয়নি কোন অভিশাপ তার বোবা অস্তিত্বকে নিয়ে উপহাস করায় শাস্তি রূপে। বরং আরও বিনীত হয়ে পরম বন্ধুর মত ফিরে এসেছে। নিজের অক্ষমতায় লজ্জা পেয়ে পশ্চিম দিগন্ত রাঙ্গা করে তাতে মুগ্ধ হতে বাধ্য করেছে। কোমল সন্ধ্যা হতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে এই আমার কথা গুলিকে মনে মনে সাজিয়ে নেবার জন্যে। আর তারপর নির্জন রাতে আবারও গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনে গেছে আমার সকল অভিযোগ, অপ্রাপ্তি আর অশান্ত সকল আর্তনাদ গুলিকে। আমি বরাবরই তার এই মহান হৃদয়ের সামনে নিজেকে হারিয়েছি। হারিয়েছি মনের অশান্ত অংশটাকে তার কোমল নিস্তব্ধ অন্ধকারে।
   
  
আমি অন্ধকারের মানুষ। আলোর দেশে নিরুদ্দেশ হয়ে অন্ধকারেই আপন পথ খুঁজে নিয়েছি অবসরে…
 

 

   

   

    
Read More »
Monday, July 27, 2015

অনুগল্পঃ মোহনার অপার্থিব ছায়া



হুট করেই স্যাঁতস্যাঁতে একটা অনুভূতি ঘিরে ধরল মোহনাকে। মনে হচ্ছে জোড় করে কেউ তার গা ভরে শ্যাওলা ঘষে দিচ্ছে । বিরক্তিকর একটা অনুভূতি। হাত থেকে মোবাইলটা রেখে বিছানায়ই একটু আড়মোড়া ভাঙ্গবার জন্যে হাত-পা ছুড়ে দিল। তারপর আবার মোবাইল হাতে ফেসবুকে ডুবে গেলো।

বেশ অনেকক্ষণ পার হবার পরেও যখন সেই অনুভূতিটাকে পিছু ফেলতে পারছিল না তখন বিরক্ত হয়েই বিছানায় মোবাইল ফেলে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে আবার ফিরে আসলো রুমে। বাইরে এলোমেলো বাতাস বইছে, গত ক’দিনের তুলনায় পরিবেশ আজ বেশ ঠাণ্ডা। সম্ভবত বৃষ্টিও শুরু হয়ে যাবে কিছুক্ষণের মাঝেই। বিছানায় আর এখন যেতে ইচ্ছে করছে না। যদিও বাইরে অন্ধকার, তবুও জানালার পাশে এলোমেলো বাতাসেই বসতে ইচ্ছে হচ্ছে।

জানালাটার কাঁচ অল্প খুলে দিয়ে বসে পড়লো পাশে থাকা সোফাটার উপর। কিন্তু মোবাইলটা তো ছেড়ে এসেছে বিছানাতেই, তাই আবার উঠে গিয়ে বিছানা হতে মোবাইলটা তুলে নিয়ে এসে বসল সোফায়। ফেসবুকটা চালু করে একটা স্ট্যাটাস লিখল- ” অপার্থিব অন্ধকারে এলোমেলো হাওয়ার তোড়ে উড়ছে মন, উড়ছে অনুভূতিরা”। পোষ্ট দেবার কিছুক্ষণের মাঝেই বন্ধুরা তাতে লাইক দিতে থাকলো। দু’একজন মজার কমেন্টও করলো।

ওগুলির রিপ্লাইই দিচ্ছিল সে, এর মাঝে শুরু হয়ে গেলো ঝুম বৃষ্টি। বাতাস আর বৃষ্টির তোড়-জোরেই জানালা বন্ধ করতে হল। তারপর আবার গিয়ে বিছানায় এলিয়ে পড়লো মোবাইল হাতে। এর মাঝে আরও কয়েকজন মন্তব্য করেছে তার ঐ পোষ্টে। তবে সেসবের মাঝে অপরিচিত একজনের মন্তব্য চোখে পড়ল।

মোহনা সাধারণত পাবলিক পোষ্ট দেয়না। তার সব পোষ্টই মোটামুটি বন্ধুদের দেখার মত করে দেয়। সেখানে অপরিচিত কারও মন্তব্য আসার প্রশ্নই আসে না। চিন্তা করতে করতেই মনে পড়ল আজ দুপুরে পাশের বাসার পিচ্চিটা এসেই তার মোবাইল হাতে নিয়েছিল গেইমস্‌ খেলার জন্যে। হয়তো সেই সময়েই ভুল করে পিচ্চিটা ঝুলে থাকা কোন রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে নিয়েছে। আর সেখান থেকেই এসেছে এই অপরিচিত। এই একজনই এড হয়েছে নাকি আরও এসেছে এই ফাঁকে, কে জানে? এখন আর চেক করতে ইচ্ছে করছে না, কাল বসে দেখতে হবে সেটা।

তবে মন্তব্যটা কেমন যেন। হয়তো অপরিচিত বলেই মন্তব্যটা ভালো মনে হয়নি তার। লিখেছে- “অপার্থিবে উড়ে বেড়ায় এমন অনেক কিছুই পার্থিব এই জগত মনে নিতে পারে না”। এটা কেমন মন্তব্য। আধারটাকে বোঝাতে না হয় অপার্থিব শব্দটা ব্যবহারই করেছিল, কিন্তু তাই বলে প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে এমন একটা মন্তব্য করতে হবে? নাহ্, ঝামেলা বিদায় করতেই হবে। নয়তো দেখা যাবে প্রতি পোষ্টেই এমন অপ্রাসঙ্গিক কথা টেনে আনছে।

ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে আইডিটার উপর ক্লিক করলো, আর অবাক হয়ে দেখল আইডিটা নেই। হয় এরই মাঝে আইডি ডি-একটিভ করেছে লোকটা আর নয়তো মন্তব্যের রিপ্লাই না পেয়ে নিজেই তাকে ব্লক করেছে। যাক, তবুও নিজে থেকেই ঝামেলার বিদায় হয়েছে, এই শান্তি।

বৃষ্টি শুরু হবার পরপরই আরও ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে শ্রাবণ মাসে মাঘ মাসের শীত নেমে এসেছে। অল্প অল্প কাপনিও হচ্ছে ঠাণ্ডায়। এত কিছুর মাঝেও সেই স্যাঁতস্যাঁতে অনুভূতিটার পিছু ছাড় হয়নি। এখনো সেই একই অনুভূতি তাড়া করে ফিরছে।

বিরক্তি যখন একদম চরমে ঠিক তখনই ঘটল ঘটনাটা। কি যেন তার ভেতর পর্যন্ত ছুঁয়ে গেলো। এই অনুভূতিটা এতটাই বাস্তব যে, তার অন্তরও সেই ছুঁয়ে দেয়া অনুভূতিটা টের পাচ্ছে। ঠিক এর পরপরই চোখ পড়লো দেয়ালে বাধাই করা নিজের ছবিটার দিকে। তবে ঠিক ছবিটা নয়, ছবির ফ্রেমের উপর গ্লাসে যে ছায়াটা দেখা যাচ্ছে সেটাই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আবছা মত প্রায় মানুষের আকৃতির কিছু একটা ভেসে আছে, আর সেটারই রিফ্লেকশন হচ্ছে ফ্রেমের গ্লাসটাতে। চট করেই চোখ ঘুরিয়ে উল্টো দিকে দেখল মোহনা। মাটি থেকে দু’তিন হাত উঁচুতে কি জানি একটা ভেসে বেড়াচ্ছে। ওটা দেখে এতটাই অবাক হল যে চিৎকার করতেও ভুলে গেলো। কিংবা কে জানে, হয়তো ভয়েই চিৎকার করতে পারছিল না।

দেখতে মানুষের আকৃতির মত হলেও ওটাকে মানুষ বলা ঠিক হবে না। আবছা একটা ছায়ার মত, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওটাও যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। স্যাঁতস্যাঁতে অনুভূতিটা আরও বাড়তে শুরু করেছে এখন। আরও মনে হচ্ছে ভাসতে থাকা ঐ ছায়াটা তার ভেতর পর্যন্ত সব পড়ে নিচ্ছে। নিজের ভেতর যেন আর কিছুই লুকানো নেই।

ধীরে ধীরে সেই উড়ন্ত ছায়াটা কাছে আসছে তার। এইতো আর এক হাত দূরত্বে আছে, আরও কাছে আসছে। আরও কাছে….. হুট করেই সব যেন অন্ধকার হয়ে গেলো।







সকালে এসে আম্মুই ডেকে দিয়ে গেলো। সোফাতে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। হুট করেই রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো। নির্ঘাত স্বপ্ন দেখেছে। এমন কি সত্যিই হয় নাকি? রাতের স্ট্যাটাসের ঐ অপার্থিব শব্দটা আর ঐ শব্দ নিয়ে করা মন্তব্যটা নিশ্চয় মাথায় গেঁড়ে বসেছিল। আর তাই ঘুমবার পরপর সেটা নিয়েই উদ্ভট স্বপ্ন দেখেছে। নিজের মনে হাসতে হাসতে গিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকল। ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে আয়নায় নিজেকে দেখছিল। আবার সেই স্যাঁতস্যাঁতে অনুভূতিটা যেন ফিরে আসছে।

দ্রুত করে ব্রাশ শেষে চোখে মুখে পানি দিতেই আবার ব্যাপারটা ঘটতে শুরু করল। ঝট করে চোখ উঠিয়ে আয়নায় দেখল। নিজের দিকে কিংবা আরও ভালো করে বলতে গেলে নিজের চোখের দিকে তাকিয়েই শিউরে উঠলো সে। দেখতে পেলো সেখানে যেন একের পর এক মোহনা দাড়িয়ে আছে তার সামনে। কিন্তু কেউই মাটিতে দাড়িয়ে নেই। সবাই মাটি থেকে একটু উঁচুতে গতকালের দেখা ঐ ছায়াটার মত ঝুলছে…



Read More »
Tuesday, March 17, 2015

গুগল ক্রোম-এ পরিষ্কার বাংলা দেখার পদ্ধতি

বর্তমানে জনপ্রিয় ব্রাউজারের মধ্যে একটি হচ্ছে Chrome। এর বিশেষ সকল ফিচার এবং স্ট্যাবিলিটির জন্যে ইতোমধ্যে ব্যবহারকারীর মাঝে নিজের অবস্থান গড়ে নিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সটেনশন ব্যবহার করে এর দ্বারাই অনেক কাজ সহজে করে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এর ডিফল্ট ফন্ট সিস্টেমে বাংলা না থাকায় যখন কোন বাংলা কন্টেন্ট সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট ভিজিট করতে চাই তখন সঠিক ভাবে বাংলা দেখা সম্ভব হয় না। তবে ক্রোমের ফন্ট সেটিংস একটু পরিবর্তন করে নিলেই বাংলা এবং ইংরেজি উভয় সাইটের কন্টেন্ট কোন ঝামেলা ব্যতীতই দেখা সম্ভব।

বাংলায় পরিষ্কারভাবে কোন সাইট দেখতে হলে প্রথমেই আপনার সিস্টেমে বাংলা সাপোর্ট এবং বাংলা ফন্ট থাকতে হবে। বাংলা সাপোর্টের জন্যে Windows XP ব্যবহারকারীরা iComplex ইন্সটল করে নিতে পারেন। তবে Windows 7 কিংবা এর পরবর্তী ভার্সনের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের এটির প্রয়োজন পড়বে না। সিস্টেমের সাথেই এটি দেয়া রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সর্বশেষ রিলিজ কৃত Avro Keyboard সফটওয়্যারটি আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করে নিতে পারলে।

অভ্র কিবোর্ড ইন্সটল করলে এর সাথেই আপনি বেশ কিছু ইউনিকোড ফন্ট পেয়ে যাবেন। তারপরও আমি সোলাইমান লিপি (SolaimanLipi) ফন্টটি ব্যবহারের কথা বলব। আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে এই ফন্টটিকেই সব দিক থেকে সুবিধাজনক মনে হয়েছে। তবে আপনারা চাইলে ভিন্ন ফন্টও ব্যবহার করতে পারেন।

ফন্ট ইন্সটল করা শেষ হলে আপনার ব্রাউজারটি চালু করুন। এরপর ব্রাউজারের মেনু থেকে সেটিংস সিলেক্ট করুন।




এরপর সেটিংস উইন্ডো চালু হলে এর একেবারে নিচের দিকে Show advanced settings… লেখাটিতে ক্লিক করুন।




এরপর Web content সেকশনের Customize fonts… বাটনটিতে ক্লিক করুন।


এরপর Font and encoding বক্স থেকে-

  • Serif font ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Sand-serif ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Fixed-width font ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Minimun font size এর মান সিক বারটি টেনে “12” করে নিন।
  • Encoding এর ড্রপ ডাউন বক্স থেকে “Unicode (UTF-8)” সিলেক্ট করুন।



সব শেষে Done বাটনে ক্লিক করে বক্সটি ক্লোজ করুন।



কাজ শেসে ব্রাউজারটি বন্ধ করে আবার চালু করুন। এবং কাঙ্ক্ষিত ওয়েব সাইট ভিজিট করলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। এরপরও কোথাও সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন। যথাসম্ভব দ্রুত সেটার সমাধান খুঁজে দিতে চেষ্টা করবো।








Read More »
Monday, January 5, 2015

অহেতুক কথোপকথন...




- কাঁদছ?
- হু
- কেন?
- আকাশ কাঁদে না বলে
- সে তো বর্ষার শুরুতেই ভুবন ভিজিয়ে কান্না জুড়ে দেবে
- দেবে হয়তো
- তাহলে কেন তোমার এই কান্না?
- বৃষ্টির সেই কান্না আর আমার কান্নায় মিল নেই বলে
- কেমন অমিল, তোমার কান্না আর ঐ বৃষ্টির কান্নাতে?
- বৃষ্টির কান্না হয়তো ভুবন ভিজিয়ে যাবে, কিন্তু তোমার অন্তর ছুঁয়ে দিতে পারবে না
- তোমার কান্না আমার অন্তর ছুঁয়ে দিচ্ছে?
- দেয়নি?
- বুঝবো কিভাবে?
- আমার কান্নার বিপরীতে ব্যাকুলতা বুঝতে পারছ? এ ব্যাকুলতা আমার অশ্রুতে তোমার অন্তর সিক্ত হয়েই সৃষ্টি হয়েছে
- আমার এই ব্যাকুলতার কারণ কি তুমি নিশ্চিত করে জানো?
- নিশ্চিত করে জানতে হয় না
- কেন?
- তাতে আগ্রহে ভাটা পড়তে শুরু করে
- কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে আমার এই ব্যাকুলতা ভিন্ন কিছু নিয়ে
- হতে পারতো, কিন্তু এখন আর পারে না
- তা কেন?
- কারণ আমার অশ্রু তোমার অন্য সকল কারণ গুলিকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে
- সত্যিই তাই?
- সন্দেহ আছে কি তাতে?
- কিছু আছে বৈ কি!
- সে সন্দেহের কারণেই কি বার বার নিশ্চিত হতে চাইছ?
- হয়তো..
- তাহলে উল্টো দিকে মুখ করে কোন ভুলে যেতে পারছ না আমার এ কান্নার কথা?
- যদি ভুলে যাই?
- তাহলে তুমি হবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, যে নিজের অনুভূতির সাথেও অভিনয় করে যেতে পারে প্রতিনিয়ত..
- কিভাবে বোঝ আমায়?
- তোমাকে বুঝি না..
- তাহলে?
- আমি আমার নিজেকে বুঝি....




Read More »
Sunday, December 21, 2014

কল্প-গল্পঃ ট্র্যাপড ইন দ্যা কোড



ইমন রায়হান ইউনিভার্সিটির পার্ট চুকিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটা ডেভেলপার কোম্পানিতে ইন্টার্ন হিসেবে যুক্ত হয়, পরে মাস কয়েক বাদে নিয়মিত প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। কোম্পানিটি একটি প্রতিষ্ঠিত গেম মেকিং কোম্পানি। ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব কনসোল এর কয়েকটি ভার্সন বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এইবার আরও আকর্ষণীয় ফিচার সমৃদ্ধ এবং আরও বাস্তবিক অনুভূতি দেবার লক্ষ্য নিয়ে নতুন কনসোল এবং গেম ডেভেলপের জন্যে সিদ্ধান্ত নেয়। ইমন সেই ডেভেলপার গ্রুপের একজন। তার কাজ ছিল প্রোফাইলিং তৈরি করা। গেমের বিভিন্ন প্রোফাইল এবং তাদের ক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা তৈরি করাই ছিল আসল কাজ। কাজটা খুব সহজ মনে হলেও এতটা সহজ নয়। প্রতিটা ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিটা চরিত্রকে তার নিজস্ব ক্ষমতা, চাল চলন, আচার-ভঙ্গিমা, আর্টিফিশিয়াল বুদ্ধিমত্তা আর এর সবকিছুর উপর সীমাবদ্ধতা দিতে হবে। কোনটা যেন আবার কোনটার থেকে পিছিয়ে না থাকে কিংবা একই ধরনের কয়েকটা ক্যারেকটারের মধ্যে যাতে ভিন্নতা থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয় প্রতিনিয়ত।

মোটামুটি কাজ ভালোই চলছিল। কাজের ফাঁকে গ্রুপ মিলে জম্পেশ আড্ডা, শিডিউল ছাড়াই হুট করে সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়া, পিকনিক-পার্টি এই সবই নিয়মিত চলছিল। এরই মাঝে ঘনিষ্ঠতা হয় গেম ইঞ্জিন ডেভেলপার ইরণের সাথে। ইরন বয়সে ইমন থেকে কিছুটা জুনিয়র হলেও কাজে এবং দুষ্টামিতে খুবই পটু কিন্তু একটু চাপা স্বভাবের। এই কারণেই ইরনের বিশেষ কোন বন্ধু নেই। তার সাথে যারা কাজ করে তারাও পারতপক্ষে ইরনকে এড়িয়ে চলে। প্রায় পার্টিতে কিংবা পিকনিকে ইরণ এক কোনায় চুপটি মেরে বসে থাকে, বাকি সবাই অন্যদিকে যার যার মত আনন্দে ব্যস্ত। ব্যাপারটা প্রথম কয়েকদিন নজরে না আসলেও পরে বেশ ভালোভাবেই নজরে পড়ে ইমনের। সরাসরি কিছু না বলে একটু খোঁজ খবর  নিয়ে তারপর একদিন এক পিকনিকে তার সাথে গিয়ে বসে কিছু সময় কাটায়, হালকা টুকিটাকি কিছু কথাও হয়। এইভাবেই তাদের বন্ধুত্বের শুরু হয়। এরপর কাজের সময়টা বাদ দিয়ে প্রায় সবসময়ই একত্রে দেখা যায় তাদের। কাজ এবং থাকার সুবিধার জন্যে দু'জনে মিলে একটা এপার্টমেন্ট ভাড়া নেয় অল্প কিছুদিন পরে।

শুধু বাইরের আলাপ আলোচনাই নয় কাজের অনেক আলাপও চলতো সমান তালে। কিভাবে এবারের গেম ইঞ্জিনটা ডেভেলপ করা হচ্ছে আর কোন কোন নতুন পর্যায়ে এইটাকে ব্যবহার করা সম্ভব আর প্লেয়ার গুলির প্রোফাইলিং এই ইঞ্জিনের সাথে কতটুকু যায় কিংবা আরও কত বিস্তৃত করা যায় এই নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চলতো। এবং আলোচনা থেকে বেশ অনেক জিনিস উঠে এসেছিল তাদের কাজে। ফলাফল, শেষ কাজটা আগের সবগুলি কাজের থেকেও বেশি সুনাম অর্জন করে এবং আর্থিক ভাবে কোম্পানি তাদের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩ গুন লাভ করে। যদিও এটা তাদের একার সফলতা নয়, তারপরও সবাই বুঝতে পারে এই একত্রে কাজ করার ফলাফল স্বরূপ তাদের এই প্রাপ্তি।

এর পরের প্রজেক্টে নিজ নিজ ক্ষেত্রে তাদের প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে পদন্নোতি দেয়া হয়। এবার দায়িত্বের সাথে সাথে স্বাধীনতাটাও অনেক বেশি চলে আসে তাদের হাতে। নিজেদের মত রুলস তৈরি করা আর গেমিং ইঞ্জিনকে সেই রুলস অনুসারে ডেভেলপ করা তাদের নেশায় পরিণত হয়। সমান তালে কাজ এবং নেশা মিটিয়ে চলছিল তারা। পরপর কয়েকটা কনসোল ভার্সন এবং গেইম তাদের দ্বারা তৈরি হয় আর কোম্পানি তাতে সুনাম এবং ব্যবসায়িক ভাবে ঈর্ষনীয় অবস্থানে উঠে আসে। ধাপে ধাপে আরও বড় হয় তাদের কাজে পরিসর।

একদিন কথায় কথায় ইরণ জানায় সে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের একটা গেমিং ইঞ্জিন তৈরি করতে চায়। এমন একটা ইঞ্জিন যাকে আসলে এইসব রুলস দিয়ে ঘিরে রাখা সম্ভব নয়। ইমন পুরোপুরি তখনও তার কথাটা বুঝতে পারে নি। হয়তো নতুন প্লান মনে করে শুনছিল কেবল। কিন্তু কদিন বাদে যখন সত্যি সত্যি তাকে নতুন প্রোজেক্টের জন্যে ক্যারেক্টার তৈরির অনুরোধ করে বসে ইরণ তখন বুঝতে পারে সে আসলে হেলাফেলা করছিল না, হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিরিয়াস ছিল ঐ ব্যাপারে। এইবার ইমন ইরণের কাছে ডিটেইলস জানতে চাইলো, বোঝার চেষ্টা করলো ঠিক ধরণের ইঞ্জিন সে তৈরি করতে যাচ্ছে। উত্তরে ইরণ যা বলল তাতে অন্য কেউ হরে স্রেফ তাকে 'পাগল' বলে আখ্যা দিতো। 

এটাও কি সম্ভব! শতভাগ রিয়েলিটির মত একটা ইঞ্জিন তৈরি করা কি আদৌ কোন প্রোগামিং এর কাজ?!? কিন্তু কোন কথাই শুনতে রাজী নয় ইরণ। তার কথা আমাদের স্পেস যেমন সকল ফিজিক্সের সূত্র আর কেমিস্ট্রির বিক্রিয়ার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ঠিক একই রকম ভাবে এই ধরাবাঁধা সূত্রগুলি বসিয়ে এবারের ইঞ্জিন তৈরি করে চায় সে। আর যেহেতু ইঞ্জিনটা তাদের ক্লাউড স্টেশনে থাকবে তাই প্লেয়ার নিজের মতন নিজেকে প্রোফাইলিং করে তারপর এই ইঞ্জিনে অংশগ্রহণ করবে।

ইমন এইবার আসলে একটু বেশি পরিমাণে ধাক্কা খেল। সাধারণত যারা গেম খেলে তারা সবাই আক্রমণাত্মক ভাব নিয়েই তাদের প্রোফাইলিং করে, কিংবা বেশ ক্ষেত্রের প্রয়োজনে বেশ পারদর্শী চরিত্র নিয়েই সবাই খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যদি একটা পৃথিবীর সবাই পারফেক্ট এবং একই মানের একই কাজের উপযুক্ত হয় সেখানে পুরো বিষয়টার কোন পয়েন্ট থাকে না। ব্যাপারটা ইরণকে বলতেই সে হেসে উঠলো। উত্তরে বলল- 
- তুমি এখনো আমার প্লানটা বুঝতে পারো নি ইমন। আমি একটা নতুন পৃথিবীর কথা বলছি। পৃথিবী, যেখানে শুরু থেকেই নিজের পছন্দমত প্রোফাইলিং করা যাবে কিন্তু সে শুরুতেই সব পেয়ে যাবে না। ধীরে ধীরে তাকে সব দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাদের গল্পের শুরুটাও আমাদের মতই হবে। ধীরে ধীরে নিজেদের ম্যানুপুলেশন করে তাদের সংখ্যা বাড়বে। চাইলেই হাজার হাজার গেমার হুট করে এন্ট্রি নিতে পারবে না। তাদের অপেক্ষা করতে হবে এই গেমসটাতে অংশগ্রহণ করার জন্যে।

পুরো আকাশটা ভেঙ্গে পড়লেও ইমনের কাছে এই মুহূর্তে সেটা বিস্ময়ের কারণ হতো না যতটা না এখন এই মুহূর্তে হচ্ছে। নিশ্চিত ইরণ পাগল হয়ে গেছে, নয়তো সে তার সাধারণ চিন্তাশক্তি হারিয়েছে। ইমন তাকে এই কথাটাই সরাসরি বলল। কিন্তু কথা শুনে ইরণ ক্ষেপে গেলো না, দমেও গেলো না। সে শুধু বলল, সে তার মত কাজ শুরু করে দিয়েছে যদি তাকে বন্ধু হিসেবে সহায়তা করতে চায় তো ভালো। না হয় নিজেই পুরোটা গুছিয়ে নিবে।

হাজার উদ্ভট হোক, বন্ধুকে তো আর মানা করতে পারে না। আর এতদিন ধরে যেই চমৎকার কাজ গুলি তারা করে এসেছে তার বিপরীতে এখন তো কোনভাবেই পিছপা হওয়া সম্ভব না। তাই শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছার ইচ্ছাতেই কাজে নেমে পড়ল ইমন। শুরুতে বেশ ঝামেলা মনে হলেও আসলে কাজটা ততটা ঝামেলার নয়, সেটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলো। যখন মোটামুটি একটা পর্যায়ে নিয়েই এসে পড়েছিল তখন আসল বোমটা ফাটাল ইরণ। বিশাল এক পরিবর্তন করতে হবে প্রোফাইলিং এ। ব্যবহারকারী কেবল ইচ্ছে করলেই সব ধরণের বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে পারবে না, তাদেরও বাস্তবতার মত পরিবার থেকে কিছু প্রোফাইল নিয়ে আসতে হবে কিংবা পারিবারিক কমন কিছু বৈশিষ্ট্য এমনিতেই যুক্ত হবে নতুন প্রোফাইল গুলিতে। আর অবশ্যই তাদের পরিবার হিসেবে কিংবা পরিবারের সদস্য হিসেবে এই গেমটাতে আসতে হবে। নয়তো হুট করে প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরের মত তারাও এন্ট্রি পাবে না এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।

এবার আর মেজাজ ধরে রাখতে পারল না ইমন, ইচ্ছা মত ঝাড়ল ইরণকে। এটাই যদি করার হতো তাহলে কাজ গুছিয়ে আনার আগেও বলা সম্ভব ছিল। কিন্তু তখন ইরণ টু শব্দটাও করেনি, আর যখন করছে তখন ইমনের কাজের প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন। এখন তার এই নতুন শর্ত প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে আবার গোঁড়া থেকে সব সাজাতে হবে। একরকম ঝগড়া-বাগড়া করেই বেরিয়ে এলো। ওদিকে প্রায় বছর কয়েক দেশে যাওয়া হয়না ইমনের। এইটা বাদে মেজর কোন কাজও নেই। রিফ্রেশমেন্টের জন্যে দেশে যাবার প্লান করলো সে। মনে মনে ভাবল তাকে ছাড়া যখন পুরো প্রজেক্টের কাজ ইরণের করতে হবে তখন সে নিশ্চই বুঝতে পারবে কত বড় পাগলামো করছিল সে। মনে মনে আরও আশা করল যে, দেশে থেকে ঘুরে এসে দেখবে এইসব পাগলামি ঝেড়ে বাদ দিয়ে নতুন কনসোল ডেভেলপ করার প্লানিং করছে ইরণ। যদিও খুব ভালো করে জানে এইসব কিছুই করবে না এই চুপচাপ থাকা উদ্ভট ছেলেটা। উল্টো হয় তাকে ফোন করে করে, কনফারেন্স আর লাইভ ভিডিও চ্যাট করে জ্বালাবে নয়তো আরও জটিল কিছু পাকাবে এই ক'দিনে। তবুও ইমন আর অপেক্ষা করল না, ২ দিন বাদেই দেশে যাবার টিকিট কনফার্ম করে প্লেনে চড়ে বসল।

দেশে ফিরার সপ্তাহ ২ পরও যখন ইরণ তাকে নক করলো না তখন মোটামুটি নিশ্চিত হল যে ইরণ এই প্রোজেক্ট বাদ দিয়েছে, আর চাপা স্বভাবের কারণে এটা স্বীকার করছে না। তাই ২ সপ্তাহ পর ইমনই তাকে ফোন দিল। ইরণ  ফোন রিসিভ করলো ঠিকই কিন্তু তাকে যেন ঠিক চিনতে পারলো না। বেশ কয়েকবার করে নাম বলার পর ইরণের মনে পড়ল কে এই ইমন। ব্যাপারটা ইমনকে কষ্ট দিলেও ইরণের খামখেয়ালিপনার জন্যে মনে রাখল না। খোজ খবর নেবার এক পর্যায়ে ইমনই জানতে চাইলো তার প্রজেক্ট সম্বন্ধে। ইরণ কিছু একটা লুকানোর মত করে বলল, "এখনো চেষ্টা করছি। তবে ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছি না।" শেষ লাইনটায় ইরণের হতাশা আর অনিশ্চয়তা কিছুটা ধরা পড়ল। তারপর সংক্ষিপ্ত কথা শেষ করে ইরণকে নিজের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন রাখল ইমন।

দেশে এসে প্রায় অনেকটা সময় নষ্ট করল। তবে এটাকে ঠিক নষ্ট বলা যাবে না, পরিবার থেকে এতদিন দূরে থাকার পর এই সময়টুকুও অল্পই মনে হয়েছে তার নিজের। সবাই মিলে এইখানে ঐখানে ঘুরাঘুরি, আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে দেখা করে আসা, বেশ কিছু পর্যটন স্থানে পরিবার সহ ঘুরে আসার মত আরও অনেক কাজে দেখতে দেখতে সময়টা ফুরিয়ে এলো। ওদিকে নতুন কনসোল সম্বন্ধে ব্রিফিং করার সময় এগিয়ে এসেছে, তাই চাইলেও আর থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। চলেই আসতে হল অবশেষে। কিন্তু এসেই এত বড় শকড হবে তার ধারণা মাত্র ছিল না।

ইরণ একজন কলিগকে খুন করে তারপর আত্মহত্যা করেছে!!! 

এটাও কি সম্ভব! সে কারও সাথে মিশত না, তেমন কারও সাথে যোগাযোগও নেই তার তাহলে হুট করেই কিভাবে সে এই কাজ করতে পারে। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, ইরণ কখনোই এমন আক্রমণাত্মক ছিল না। মারামারি, খুন, রাহাজানি এইসব খবর পর্যন্ত এড়িয়ে চলত। তাহলে এইটা কি করে সম্ভব হয়‍!!! 

এর উত্তর অজানাই থেকে যায়। ফরেনসিক এবং পুলিশ বিভাগ তেমন কোন তথ্য কিংবা মোটিভেশন এর পেছনে দিতে পারে নি। শুধু জানিয়েছে দিন কয়েক ইমি নামের মেয়েটার সাথে দেখা গেছে তাকে। তারপর কোন কারণে তাদের সেই ভাড়া নেয়া ফ্লাটে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। "ইরিনা ইমি" বেশ বড় ধরণের ইলেকট্রিক শক পাওয়ার কারণে মারা যায়। ঠিক একই পরিমাণ শক ইরণও গ্রহণ করে বলে রিপোর্টে ধরা পড়ে। কিন্তু তারপরও মারা যায় নি। বরঞ্চ তার থেকে আরও ২ দিন পর সিলিং এ ঝুলে আত্মহত্যা করে।

কোন কারণ নেই, তারপরও ইমন নিজেকে দোষারোপ করতে থাকে এই ঘটনার জন্যে। সে ঐ সময়টাতে দেশে না গেলে, ইরণের ঐ উদ্ভট প্রজেক্টের সাথে থাকলে হয়তো এই সব কিছুই হতো না। কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তেমন কিছুই আর করার নেই। কোম্পানির কাজের মধ্যে নিজেকে পুরোপুরি ডুবিয়ে দিলো। কিন্তু ধারাবাহিক ফলাফলের মত এইবারের কনসোল তেমন আকর্ষণীয় হল না। ব্যবসায়িক ভাবে তেমন ক্ষতি না হলেও প্রকৃত অর্থে যেই পরিমাণ লাভ আশা করেছিল তার ধারের কাছেও এবার যেতে পারেনি।

এরপর নিজেকে বেশ গুটিয়ে নিয়ে আসে ইমন। কাজে ইস্তফা দিয়ে নিজের এপার্টমেন্টেই শুধু সময় কাটাতে লাগল। সে ইরণের কাজগুলিকে দেখতে শুরু করলো। একেবারে শুরু থেকে প্রজেক্টের কাজ দেখে যেতে লাগল। আগে তেমন খেয়াল না করলেও পরে খেয়াল করলো ইরণ তার প্রোজেক্ট বন্ধ করেনি। তাদের নিজস্ব ক্লাউড কম্পিউটিং এ ফাইল গুলি এখনো সচল। শুধু সচলই নয় কিছু একটা আলাদা প্যাটার্ন নিজেই নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু ঠিক কি এইভাবে নিজেকে বার বার সামনে নিয়ে আসছে, কেনই বা প্রায়োরিটি বার বার পরিবর্তন হচ্ছে তার সঠিক কোন ফ্লো সে দেখতে পারছে না।

সপ্তা কয়েক বাদে জিনিসটা নজরে আসে ইমনের। তার প্রোফাইলিং সিস্টেম এখানে এড করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেখানে অনেক বড় ধরনের একটা পরিবর্তন আছে। আর পরিবর্তন টুকু করেছে ইমি নামের মেয়েটি, যে কিনা তার দলেই প্রোফাইলিং এর কাজ করত। এবার ব্যাপারটা পরিষ্কার হয় ইমনের কাছে। ইরণ আসলে প্রোজেক্ট কখনোই বাদ দেয়নি। সেদিনের সেই হতাশাটা কৃত্রিম ছিল, কারণ তার কাজ সে এরই মাঝে অন্য একজনকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আর যাকে বুঝিয়েছে সেই মেয়েটার অবস্থান ঠিক তার পরেই ঐ কোম্পানিতে। নতুন করে মেয়েটা এক ধরণের প্রোফাইলিং করেছে, যেটাকে আধুনিক পরিবার এবং আধুনিক প্রসূতি ব্যবস্থা হিসেবেই চিহ্নিত করা যায় খুব সহজেই। এখানেও মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং ধারণার মত দুজন প্যারেন্ট প্রোফাইল থেকে একজন চাইল্ড প্রোফাইল তৈরি হবে। আর সেই চাইল্ড প্রোফাইল একই সাথে দুই প্যারেন্ট প্রোফাইল থেকে যেমন বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে, ঠিক তেমনি ইউজারের চাহিদা মত বৈশিষ্ট্য যুক্ত হতে থাকবে সাথে সাথে। 

বলা যায় একটা সম্পূর্ণ পৃথিবী তৈরি করে ফেলেছিল ইরণ। এবার শুধু একে লাইভ ইভেন্ট আকারে কিছু ঘটনা কিংবা স্ক্রিপ্টের ভেতর দিয়ে চালিয়ে দেখার বাকি। যখন ইমন এই সব কাজ দেখে উত্তেজনায় কাঁপছিল ঠিক তখনই ভিজুয়াল ইমেজে ইরণের উপস্থিতি হয় ঘরটার মধ্যে। এটা একটা ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা যা তারা কনফারেন্স করার সময় ব্যবহার করতো। যদিও অফিসিয়াল সুবিধার মধ্যে এটা একটা, তবুও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমতি কেবল ইমন আর ইরণ পেয়েছিল সি.ই.ও'র পরে।

ত্রিমাত্রিক ইরণ বলতে থাকলো-

ইমন আমি দুঃখিত। কারণ আমি তোমার অনুমতি ছাড়াই তোমার কাজটি ইমিকে দিয়ে দিয়েছি। এবং যখন তুমি এই মেসেজটি দেখছ, তখন আমি আর সরাসরি তোমার কাছে ক্ষমা চাইবার অবস্থায় নেই।

ইমন আমি জানতাম তুমি এই পর্যন্ত এসে একে লাইভ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু ভুলেও এই কাজটি করতে যাবে না। কারণ ইতোমধ্যে আমি একটা সিম্যুলেশন চালিয়েছি। তুমি আমার এই থ্রিডির ঠিক নিচের ফ্লোরের কার্পেট এবং টাইলস সরালেই সেটির পরিণাম দেখতে পাবে। 

তুমি শুরু থেকেই বলে আসছিলে এটা অত্যন্ত উদ্ভট একটা প্রজেক্ট। এবং অনেক ভাবেই আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিলে। কিন্তু আমি তখন একটা মোহে আটকে গিয়েছিলাম। বলতে পারও এটা আমার ছোটবেলার স্বপ্নের একটা অংশ বিশেষ। যখন আমি আমার বাবা-মা'কে একসাথে একটা এক্সিডেন্টের মধ্যে হারিয়ে ফেলি ঠিক তখনই এই ইচ্ছাটা আমার মনে আসে। যেখানে আমরা প্রাকৃতিক নিয়মে বড় তো হবো ঠিকই, কিন্তু অসময়ে কেউ হারিয়ে যাবো না। 

কিন্তু আমার ধারণায় এটা কখনোই আসে নি যে প্রকৃতিকে আর যাই হোক হাজার কোটি লজিকে একে মোড়ানো সম্ভব না। আমি যেহেতু এটাকে লাইভ সিম্যুলেশন করতে চেয়েছিলাম তাই সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরন সিগন্যাল এবং তাতে সংরক্ষিত তথ্য চাচ্ছিলাম। আমি চাইছিলাম ইমি আমাকে সহায়তা করবে এই কাজে। সব ঠিক ঠাক চললেও ইমি তার মস্তিষ্ক এবং নিউরন শেয়ার করতে রাজী হচ্ছিল না। শেষে একরকম মরিয়া হয়েই তার ইচ্ছার বিপরীতে আমি তার মস্তিষ্ক স্ক্যান করি। তার প্রতিটা সিগনাল আমি ক্যাচ করতে সক্ষম হই ৩ দিন সময় ব্যয় করে। একই সাথে নিজের মস্তিষ্কের স্ক্যান কপি তৈরি করি। 

কিন্তু কিছু একটা গোলমেলে হয়ে যায় সেখানেই। ইমির স্ক্যান শেষে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহ হতে থাকে তার মস্তিষ্কে। যেন শেষ পর্যায়ে এসে সে তার ডাটা গুলি দিতে অসম্মতি জানাচ্ছিল। কেউ অবচেতন অবস্থায়ও এতটা শক্তিশালী হয় সেটা তুমি নিজে না দেখলে কখনো বিশ্বাস করতে পারবে না ইমন। শেষ অবধি আমাকে আরও বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়াতেই হল বাধ্য হয়ে। সাক্ষাত শয়তান হয়ে গিয়েছিলাম আমি। একবারও মেয়েটার জন্যে মায়া লাগেনি আমার, অথচ আমি জানতাম আর ৫ভোল্ট বাড়ালেই মেয়েটা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। যাই হোক ইমিকে শেষ পর্যন্ত পুড়ে যেতে হয়নি। তবে মেয়েটা একদম শান্ত হয়ে গেলো নিমিষেই। 

তুমি বিশ্বাস কর আমি চেষ্টা করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম যাতে কোন ক্ষতি না হয় মেয়েটার। কিন্তু মেয়েটার জেদের কারণে আমাকে এমন পিশাচের মত হতে হয়েছে। তখনও আমার ভেতর কোন অনুতপ্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। বিশ্বাস কর,  নিজের হাতে সুইচ টিপে মানুষ হত্যা করলাম কিন্তু সেটাকে কোন অপরাধই মনে হচ্ছিল না। কারণ আমি তাকে ঠিকই বাঁচিয়ে রেখেছি। 

হ্যাঁ, আমার প্রোগ্রামে এখন ইমি আর আমি বন্দী অবস্থায় আছি। তুমি খুব ভালো করে খেয়াল করবে দুইটি ফাইল বার বার করে নিজেদের প্রায়োরিটি পরিবর্তন করছে। কিন্তু কেন, কিভাবে এইসবের কোন উত্তর, কোন লজিক নেই।

যাই হোক, এবার সিমুলেশনের কথায় আসি। আমার উন্নতমানের যেই পোর্টেবল সুপার কম্পিউটারটাতে এক্সেস ছিল সেটাতে এই প্রোগ্রামটা হোস্ট করি। আমি জানি এটা নিরাপদ, কারণ এটার সাথে বাইরের নেটওয়ার্কের কোন রকম সংযোগ নেই। প্রায় ১ দিন প্রোগ্রামটা রান করার পর ব্যাপারটা নজরে আসে। তোমার কথাই সত্যি, এই পুরো প্রজেক্ট পয়েন্ট লেস। যেখানে কোন চাহিদা নেই সেখানে এই ধরণের পৃথিবীর কোন প্রয়োজনই নেই। আমি এত পরিমাণ মল, কমপ্লেক্স আর এত পরিমাণ সুসজ্জিত লোভনীয় জিনিস সেখানে দিয়ে রেখেছিলাম যে তুমি  আমাদের দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত এই ধরণের জিনিস বাস্তবে পেলে লাফিয়ে উঠবে। 

কিন্তু ঘটনা তার সম্পূর্ণ বিপরীত কিছু হয়েছে। বেশ অনেকটা সময় ঘোরাঘুরির পর ইমি আর আমি দুজনেই দুটি এমুনেশন শপে যাই। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় এমুনেশন নিয়ে পুরো এলাকা তা ছড়িয়ে দেই। যেহেতু সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে তাই নিউক্লিয়ার ব্যবহারেও তাদের কোন মানা ছিল না, আর আমিও কোন বাধা দেই নি। 

দেখতে দেখতে ২৪ ঘণ্টা শেষ হবার আগেই তারা পুরো ভার্চুয়াল পৃথিবীটা ধ্বংস করে দেয়। তবে তার আগে ইমি আমাকে সেখানে খুন করে। কিংবা বলতে পারো খুন করার চেষ্টা করে। কারণ সেখানে তো এক্সিডেন্টলি কেউ মারা যেতে পারে না। তাই ইমির আঘাতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি ঠিই, কিন্তু মারা যেতে পারি নি। 

হ্যাঁ, এখন যেই ফাইল দুইটির তুমি বার বার প্রায়োরিটি পরিবর্তন হতে দেখছ সেই দুইটিই আসলে আমাদের প্রোফাইল। আমার করা পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও আমাদের কোন পরিবর্তন হয়নি। আমরা এতে আটকে গেছি। আর এখান থেকে সরাসরি মুক্তি দেবার কোন পদ্ধতিও নেই। আমাদের মস্তিষ্কের সাধারণ সিগন্যাল থেকে প্রাপ্ত ডেটা এনালাইসিস করে যখন আমাদের সকল নিউরনের মৃত্যু ঘটবে বলে উপাত্ত দিয়েছে, ঠিক সেই সময় পরেই আমাদের আক্ষরিক অর্থে মৃত্যু কিংবা প্রোগ্রাম টার্মিনেট হবে। এর আগে কখনোই এটা করা সম্ভব নয়।

এরপর যেমন করে হুট করে মেসেজ শুরু হয়েছিল তেমনি হুট করেই মেসেজের সমাপ্তি। ইমন পুরাই বোকা বনে গেলো এই মেসেজ শুনে। তারপর সত্যি সত্যি পোর্টেবল সুপার কম্পিউটারের এক্সেস দেখতে শুরু করলো। সত্যিই সেখানে কিছু নেই তবুও বেশ সূক্ষ্ম একটা পরিবর্তন লক্ষণীয়। আর এই পরিবর্তনটাও প্রোগ্রামের পরিবর্তনের মতই ঘটছে। 

পুরো দুই ঘণ্টা মাথায় হাত চেপে বসে রইলো ইমন।  কারণ এতক্ষণে আসল ক্ষতিটা হয়েই গেছে। সে আসার পর ঐ সার্ভারে নতুন গেম আপলোড করা হয়েছিল। এবং গেমের সফল টেস্টিং শেষে ঐ ডাটা নিয়ে মূল গেম সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে। আর মূল গেম সার্ভারই মূলত এই গেমের ডিস্ট্রিবিউশন, পয়েন্ট সংরক্ষণ, অনলাইন গেমার প্রোফাইল আপডেট এবং তাতে পূর্ণ পরিবর্তন করতে সক্ষম। আর এখানে যদি ইরণের সেই প্রোফাইল দু'টি চলে গিয়ে থাকে তাহলে এই মুহূর্তে আর কিছুই করার নেই তার। কারণ প্রতিটা গেম কনসোলে এই প্রোগ্রাম কপি হয়েছে। প্রতিটা অনলাইন স্টোরে এই গেমের কপি সংরক্ষণ হয়েছে এবং তাদের এনক্রিপশন অনুযায়ী এগুলি সিকিউরডও করেছে নিজেদের। 

ঠিক এই ভয়টা মনে নিয়ে যখন তাদের মেইন সার্ভার চেক করতে বসল ফলাফলটা ঠিক তাকে গালে চাপড় দিল। তার ধারণাই সত্যি। অন্তত আগামী ৩০ বছর এই প্রোগ্রাম দুনিয়ার প্রতিটি নেট কানেক্টেড সার্ভার, পিসি, মোবাইল এমনকি কনসোলে সংরক্ষিত থাকবে। পুরো হার্ড ড্রাইভ মুছে দিয়েও একে কিছুই করা সম্ভব হবে না। আর পুরো পৃথিবীর ব্যাকআপ পাওয়ার কখনোই অকেজো হবে বলে মনে হয় না। অন্তত হলেও মোবাইল আর কনসোল মেমরিতে এই দুটি ভার্চুয়াল স্বত্বা বেঁচে থাকবে। 

মানুষের হাজার কোটি বছর ধরে খোঁজ করা কাঙ্খিত অমরত্বের একরকম উপায় পাওয়া গেলো ঠিকই, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে...




═══════════════════════════════════
●●●● সংশোধন সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতাঃ বর্ষা আপু ●●●●


Read More »
Wednesday, November 19, 2014

হিজিবিজি ভাবনা



একজন কবি তার বিখ্যাত কবিতাটা লেখার পূর্বে ছন্দগুলিকে মনে মনে সাজাতে থাকে, তারপর সেই ছন্দ কবির আঙ্গুল ছুঁয়ে কলমের কালি রূপে কাগজের পাতায় স্থান নেয়। ঠিক এই একই ব্যাপার ঘটে গল্পকারের বেলাতে। সেও তার গল্পটাকে প্রথমে মনের মধ্যে গুছিয়ে নেয়, আর তারপর সেটাকে শব্দের গাঁথুনিতে ধীরে ধীরে ঘটনার রূপে আমাদের সামনে নিয়ে আসে। এই একই সূত্র সুরকার, গায়ক, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পীর ব্যাপারেও ঘটে।

চিত্রশিল্পী হাজার হাজার দৃশ্য থেকে মনের ক্যানভাসে প্রথমে তার চিত্রটার লাইনগুলিকে ফুটিয়ে তোলে। তারপর ধীরে ধীরে রঙ গুলিকে সেই চিত্রটাতে ছড়িয়ে দিয়ে মৌলিক অংশটাকে পূর্ণ করে। তারপর সত্যি সত্যি হাতে তুলে নেয় রঙ-তুলি। ক্যানভাসে দ্রুত হাতে একটা রঙের পর আরেকটা রঙ ফেলে ফেলে মনের সেই চিত্রটার মত করে রূপদানে লেগে পড়ে। সৃষ্টি করে তার অসামান্য শিল্পকর্ম। মানুষ মুগ্ধ নয়নে সেই সৃষ্টিকর্মকে উপভোগ করতে থাকে। মুখে মুখে তার প্রশংসার স্থান নেয়। মাঝে মাঝে সময়ের শ্রেষ্ঠ চিত্র হিসেবে খেতাব পেয়ে যায়। তাতেও সেই শিল্পটির সঠিক মূল্যায়ন না হলে সময় একে এতটাই মূল্যবান করে দেয় যে শত সহস্র বছর পার করলেও সেই চিত্রটি অন্য সবার থেকে আলাদা ভাবে মূল্যায়িত হয় সকলের কাছে।

কিন্তু একবারও কি কেউ ভেবে দেখেছেন?
যে চিত্রটি শিল্পী এত সময় নিয়ে, এত শ্রম দিয়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলল, সেটা তার মনের ক্যানভাসে থাকা চিত্রটার অবিকল রূপ পেয়েছে কি না? যে রঙ আর যেই অভিব্যক্তিটি শিল্পী মনে নিয়ে আঁকতে শুরু করেছিল তা পরি-পূর্ণরূপে কাগজের ঐ ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে কিনা?

হয়তো কেউ কেউ সত্যি সত্যি মনের ক্যানভাসের অবিকল রূপটা কাগজের ক্যানভাসে তুলতে পারেন। কিন্তু যেই শিল্পকর্মটিতে তার ১ শতাংশ পরিমাণ অমিল থেকে যায়! সেই ১শতাংশ পরিমাণ পূর্ণতা পেলে এই অমূল্য শিল্পটা আরও কত বেশি পরিমাণে আকর্ষণীয় হতো সে হিসেব কি কেউ কখনো লাগাতে পারবেন? কেউ কি পারবেন ঐ ১ শতাংশ ঘাটতির প্রশংসা করতে কোনদিন??

সত্যিই পারে কি কেউ মনের গহীনে সৃষ্ট সুর, ছন্দ, শব্দ আর রঙ গুলিকে শতভাগ বাস্তবে রূপ দিতে ?
সব শেষেও সেই বিখ্যাত শিল্পকর্মটার সৃষ্টির পরে কোন শিল্পীর কখনোই কি কোন আক্ষেপ থেকে যায় না ??
Read More »
Friday, October 31, 2014

সম্প্রতি দেখা সিনেমাঃ Emperor (2012)

গত পরশু চমৎকার একটা মুভি দেখলাম। মুভি যা ইতিহাস এবং গল্প একত্রিত করেছে। মুভিটির নাম Emperor যা ২০১২'র ২৭ জুলাই মুক্তি পায়।



মুভিটির শুরু জাপান আত্মসমর্পণের অংশ থেকে। যেখানে জেনারেল ডাগলাস ম্যাকআর্থার কে তার সহযোগীদের সাথে পাঠানো হয় জাপানে। তারা জাপান আসে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটাকে নেতৃত্ব দিয়ে নতুন ভাবে এগিয়ে নিতে আর যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির আলতায় নিয়ে আসতে। আসা মাত্রই জেনারেল বার্নার ফেলাস তৎপর হয়ে উঠে, যাতে কোন যুদ্ধাপরাধী পালাতে কিংবা আত্মহত্যা করতে না পারে। অল্প সময়ের মাঝেই প্রায় সবাইকে তারা ধরে নিতে সক্ষম হয়, তবুও এর মাঝে কয়েকজন আত্মহত্যা করে বসে। বাকি কিছু আমেরিকানরা দেশে এসেছে জেনেই গা'ঢাকা দেয়।



অন্যদিকে জেনারেল বার্নার ফেলাস, যে তার থিসিস করেছিল এই জাপানী সংস্কৃতি এবং  রাজনীতি নিয়ে। তার থিসিস করার সময়ে পরিচয় হয় আয়া নামের এক জাপানি বালিকার সাথে। প্রথম দেখাতেই দুজন দুজনের ভালোলাগায় পরিণত হয়। কিন্তু পারিবারিক কারণে আয়া ফিরে যায় তার দেশে। পরবর্তীতে বার্নার তার থিসিসের উদ্দেশ্যে জাপান আসলেও, আয়ার সাথে দেখা করাই তার মূল উদ্দেশ্য থাকে। 


কিন্তু এর মাঝেই অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়ে যায়। জাপান সরকার তখনই জনসাধারণের মনে আমেরিকানদের শত্রু হিসেবে পরিচিতি দিতে প্রচারণা চালাতে থাকে। বিভিন্ন স্তর আর বয়সের মানুষে আমেরিকানদের উপর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়েই বিদ্বেষ আর আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ পায়।


এদিকে যুদ্ধপরবর্তী জাপানের অবস্থা তখন বেশ ভয়াবহ। বিস্ফোরণের আঘাতে মানুষ আর তাদের জীবন একেবারেই মানবেতর পর্যায়ে। ভেতর ভেতর ক্রোধ থাকলেও সেটা প্রকাশ করতে পারে না। আবার অন্যের সিদ্ধান্তে বেঁচে থাকা সেটাও মেনে নিতে পারে না মন থেকে। ঘৃণা আর আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ সর্বস্তরে, যদিও সেটা তখন নিজেদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। 


কিন্তু এইসব ছাপিয়েও জেনারেল বার্নারের মনে জাপানের মানুষদের জন্যে একটু দুর্বলতা রয়েছে। আর এই দুর্বলতার বড় একটা অংশ আয়া। থিসিস করার সময় আয়ার সহযোগিতায় সে জাপানীদের অতীত সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক অনেক কিছুই বিস্তর ভাবে জানতে পেরেছিল। আয়া'র এক চাচা জেনারেল হবার সুবাদে তার থেকে রাজনৈতিক অনেক ব্যাপার জানতে পেরেছিল বার্নার। একই সাথে জাপানের ঐতিহ্য আর একে এগিয়ে নিয়ে যাবার কৌশল কিছুটা আয়ত্ত করতে পেরেছিল সে ঐ সময়।


যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নিজের কাজের পাশাপাশি বার্নার আয়াকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এখানে আসার পর তার জন্যে একজন জাপানী ড্রাইভার, পথ নির্দেশক এবং দোভাষী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। জেনারেল বার্নার আয়াকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তার সেই ড্রাইভার তাকাহাসিকে প্রদান করে। তাকাহাসিও দায়িত্বের সাথে আয়ার খোঁজ করতে শুরু করে। কিন্তু প্রতিবারই তাকে হতাশ হতে হয়। প্রতিবারই আয়াকে খুঁজতে গিয়ে খুঁজে পায় বোমা হামলায় নিশ্চিহ্ন এলাকার অবস্থান। 


অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য যাদের কাছ থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তারা সবাই এইসব তথ্য দিতে নারাজ। আমেরিকানদের সরাসরি সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকে। কিন্তু তাতে দমে যায় না জেনারেল বার্নার। আসলে সে নিজেও জানত জাপানী নেতাদের সম্মানেই জাপানের কোন সাধারণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে উচ্চ মর্যাদার কেউ এগিয়ে আসবে তাদের কাজে অগ্রগতি আনতে। তাই সে ভিন্ন পথে এগুতে থাকে, বেছে নেয় বন্দী যুদ্ধাপরাধীদের। সেই ধারাবাহিকতায় গভর্নর থেকে একজন যুদ্ধাপরাধী কানয়ী'র নাম জানতে পারে।


জেনারেল দেখা করে কানয়ীর সাথে। জেনারেল খুব জোর দিয়ে জানতে আগ্রহী হয় সম্রাট হিরোহিথো কি সরাসরি পার্ল হারবার এর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না সেই সম্বন্ধে। কিন্তু কানায়ী জানায় ঐ সময়টা ছিল বেশ গোলযোগপূর্ণ, সম্রাট নিজেও বেশ গোলমেলে ছিলেন এই নিয়ে। গভর্নর বিভিন্ন ভাবে উপদেশ আর নির্দেশ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাই সম্রাটের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেক নির্দেশনাই গভর্নর দিতে পেরেছিলেন ঐ সময়। প্রকৃত সম্রাট কি চাইতেন তা তার ধারণার বাইরে।


বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে জেনারেল বার্নার জেনারেল ডাগলাস এর সাথে সম্রাট হিরোহিথোর সাক্ষাত করার ব্যবস্থা করে। এর মাঝে বেশ চমকপ্রদ এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে থাকে জেনারেল বার্নার। একই সাথে নিজের বুদ্ধিমত্তা আর জাপানিদের সংস্কৃতির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমানভাবে নিজের কাজ এবং জাপানের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করে এগিয়ে যায় সে।



মুভিটিতে জেনারেল বার্নারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন Matthew Fox আর জেনারেল ডাগলাস এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন Tommy Lee Jones। পরিচালক পিটার ওয়েবার চমৎকার ভাবে ইতিহাসের সাথে জেনারেল বার্নারের ভালবাসাকে তুলে ধরেছেন। মুভিটা যতটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত অনুভূতি দেবে তার চেয়েও বেশি পরিমাণে জেনারেল বার্নার আর আয়ার ভালোবাসাকে বর্ণনা করবে। বার্নারের এই ভালোবাসার কারণেই জাপানের সম্রাট হিরোহিথোর সম্মান রক্ষা করে পুরো ব্যাপারটাকে একটা চমৎকার সমাপ্তিতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল। 



যারা ইতোমধ্যে মুভিটি দেখেছেন তারা অবশ্যই উপভোগ করেছেন বলে আশা করি। আর যারা এখনো দেখেন নি তারা সময় নিয়ে দেখতে পারেন। আশা করি মুভি দেখার পর সময়টা নষ্ট করেছেন বলে মনে হবে না।

মুভির ট্রেইলার : 





- !?! -



Read More »
Monday, September 22, 2014

অগোছালো কথোপকথন.....




: সবাই আস্তে আস্তে অনেক পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছি। চেনার ভেতরেই নতুন করে অচেনা হয়ে যাচ্ছি। হারিয়ে যাচ্ছি একই স্থানে বসে থেকেও।

› সময়ের সাথে সবই বদলায়। প্রকৃতির তো এটাই নিয়ম। প্রকৃতি কখনো নিয়ম ভাঙ্গে না।

: তবুও কেউ পুরানো সুতা আঁকড়ে ধরে বসে থাকতে চায়। তাদের পরিবর্তন হয়েও হয় না। ভেতরে ভেতরে পুরাতনই থেকে যায়।

› তাই তো তাদের এই প্রকৃতি সাথে নেয় না। ফেলে সামনে এগিয়ে যায়। কি লাভ পুরাতন ধরে রেখে? কি ক্ষতি নতুন কে গ্রহণ করতে?

: লাভ ক্ষতির হিসেব করে তারা পুরাতন আঁকড়ে থাকে না। তবে নতুনের মাঝে নিজেকে নিজের সত্ত্বাকে হারানোর ভয় থাকে। তারা দেখেছে, জেনেছে অনেকেই হারিয়েছে এই নতুনের প্রকৃতিতে। নতুন সময় অনেক কে গ্রাস করেছে পুরাতন ছেড়ে দেবার কারণেই। তাদেরই বা কি দোষ বল??

› পুরাতন কে আঁকড়ে ধরে যদি সুখী হতো, যদি না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস না থাকতো তাহলে সেটাই তো ভালো হত। কিন্তু তা কি হয়েছে?

: তা হয়তো হয়নি। কিন্তু পুরাতন ছেড়ে যারা আপন সত্ত্বাহারা হয়েছে তারাই বা কতটুকু সুখে আছে নতুনত্বে সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়।

› তারা ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই চেষ্টা করা থামিতে দিলেই তো সব নির্জীব লাগে।

: হয়তো! আবার হয়তো এমনও হতে পারে তারা নিজেদের পুরনো অবস্থানটাকেই খুঁজে চলেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। কে জানে বল?







( এরপর অজানা, কথোপকথন এগুলে হয়তো চলবে। নয়তো এখানেই সমাপ্তি..... )



Read More »
Saturday, September 20, 2014

অপরিচিত এই অন্ধকারে...



ল্যাম্প পোষ্টের নিচে দাড়িয়ে আছি। না, যেদিকটাতে আলো পড়ে সেই দিকটাতে না তার উল্টোদিকে। আলোর আভা আমার গায়েও লাগছে কিন্তু অন্ধকারে এইটুকু আলোর জন্যে অন্ধকারটাকে আরও আপন মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে। কাছাকাছি আরও দুইটা ল্যাম্পপোস্টের কোনটাতেই আলো নেই। কে জানে হয়তো লাইট গুলিই চুরি গেছে, আলো দেয়া তো এখন অনেক দূরের ব্যাপার। এ শহরের কেউ যেমন তাদের এই সম্পত্তিগুলির খেয়াল রাখে না আমিও তেমন একজন। কিন্তু আজ চোখে পড়ছে, কারণ এই অন্ধকারে তৈরির পেছনে যেই সম্পদ গুলি হারিয়েছে আমিও তেমন হারিয়েছি। অন্ধকারটাকে আপন মনে হচ্ছে আর সত্যি কথা বলতে কি আলো না থাকাতেই যেন স্বস্তি পাচ্ছি এই মুহূর্তে। অন্য কোন সময় হলে হয়তো ব্যাপারটা ভিন্ন রকম হত।

রাস্তার ওপারের কলোনির ৩ তলা বিল্ডিংটাতে আমার বসবাসের স্থান ছিল আজ বিকেলেও। কিন্তু বিকেলটা শেষ হতেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। জানলাম আমি এতদিন যে বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি সেই বিশ্বাসের কোথাও আমার অবস্থান নেই।

বিকেলে এক ভদ্রলোক এসেছিলেন ঐ বাসায়। তাকে আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। কিন্তু বাবার মুখটা হুট করেই তাকে দেখে কেমন যেন শুকিয়ে গেলো। যদিও খুব ভদ্রভাবে তাকে বসার ঘরে নিয়ে বসালেন, তারপর বেশ পরিচিত ভঙ্গীতেই কেমন আছে, কি হাল এইসব জানতে চাইছিলেন। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম বাবা চাচ্ছিলেন না এই লোকটি এখানে আরও ১ টা মিনিটও অপেক্ষা করুক। যেন দ্রুত কথা বলে বিদায় করে দিতে পারলেই বাবা বাঁচেন।

আম্মা আমাকে ভেতরের রুম থেকে ডাকলেন। তারপর হাত ধরে নিয়ে আমার রুমটাতে নিয়ে এসে কেমন যেন ঝটপট বুঝিয়ে ফেলার ভঙ্গীতে বলতে থাকলেন-
"এই লোক কিছু বললে বিশ্বাস করবি না একদম। এই লোকের কথায় কিছু আসে যায় না। তুই যেমন আছিস এমনই থাকবি, বুঝেছিস।"
আমি ঠিক বুঝি নি, তবে এটা বুঝেছি আম্মা আসলে কথাগুলি আমাকে বলেন নি। আসলে কথাগুলি সে নিজেকেই বলেছেন আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে। আমিও আম্মার কথা মত দ্রুত বোঝার ভঙ্গী করে বললাম বুঝেছি। তারপর আম্মা আমাকে রুমে রেখেই চলে গেলেন লোকটির সাথে বাবা যে রুমে কথা বলছেন সেই রুমে।

অস্পষ্টভাবে এখান থেকেই শুনতে পারছিলাম তারা কোন একটা ব্যাপারে একমত হতে পারছে না, কথা কাটাকাটি করছে। অকারণেই বুঝে নিয়েছিলাম কোথাও একটা সুর কেটে গেছে এই সময়টার ভেতরেই। এর মধ্যেই আব্বা হুট করে রুমে ঢুকে আমাকে টেনে বসার রুমে নিয়ে গেলেন আর বললেন -

"এই ছেলে যদি আপনারই হয় তাহলে এতদিন কি করেছেন? ওখানে কেন ছেড়ে এসেছিলেন ছেলেকে? এতই মায়া তাহলে তখন কেন মায়ায় কমতি পড়েছিল?"

হুট করে কথাগুলি শুনে কেমন যেন ঘোরে চলে গিয়েছিলাম। বাবা এরপরও কি যেন বলছিল খুব উত্তেজিত হয়ে। আবার সেই লোকটাও সমান তালে উত্তেজিত হয়েই কথার উত্তর দিচ্ছিল। কিন্তু কোন কথাই আমার কানে ঢুকছিল না। এক মুহূর্তেই পুরো দুনিয়াটা উল্টে গিয়েছিল আমার জন্যে।

এরপর ঐ ঘোর লাগা অবস্থাতেই ছুটেছিলাম, ঘর ছেড়ে বিল্ডিং থেকে নেমে রাস্তা ধরে ছুটছিলাম। হাঁপাতে হাঁপাতে পড়ে যাবার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ঐভাবেই ছুটছিলাম আমি। হোঁচট খাবার পরেই ঘোরটা কাটল। চারপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছিল বাবার কথাগুলি এরাও সবাই জেনে গেছে এরই মাঝে। রাস্তা থেকে দ্রুত উঠে ফুটপাতেই বসে পড়লাম। তখনও চরমভাবে হাঁপাচ্ছিলাম। বার বার আম্মার কথাগুলি কানে বাজছিল-
"এই লোক কিছু বললে বিশ্বাস করবি না একদম। এই লোকের কথায় কিছু আসে যায় না।"
কিন্তু ঐ লোক কিছু বলার আগে আমার বাবা এইসব কি বলল তাহলে? কেন বলল কথাগুলি?

চোখ ফেটে কান্না আসছে, কিন্তু আমি কান্নাও করতে পারছি না। কেমন যেন হাসফাস হচ্ছিল ভেতর ভেতর। বারবার মনে হচ্ছিল বাবা ঐসব মিথ্যা বলেছিল। এমন তো হতেই পারে না। আমার তো এখনো স্পষ্ট মনে আছে বাবা আমাকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছে, ঘুমপাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাহলে এমন কথা কেন বলবে বাবা। এটা হতেই পারে না। মনে হচ্ছিল আমি ভুল শুনেছি, বাবা অন্য কিছু বলেছিল। আমিই ভুলে কথাগুলি এমন শুনেছি।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। ফুটপাতে এত সময় বসে আছি দেখে কয়েকজন কেমন করে তাকাচ্ছেও। তার মধ্যে পড়ে গিয়ে হাঁটুর অনেক বড় অংশের চামড়া উঠে গেছে। একটু একটু রক্তও বের হচ্ছে সেখান থেকে সাথে জ্বালা করছে অনেক। কিন্তু মনের ভেতর যেই জ্বালা হচ্ছে তার কাছে এই জ্বালা কিছুই না। আমি শুধু বারার চাইছিলাম এই দুঃস্বপ্নটা ভেঙ্গে জেগে উঠি। উঠে দেখি আম্মা আমার জন্যে বিকেলের নাস্তা রেডি করছে। কিন্তু জাগতে আর পারছি কই। জ্বলে-পুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছি আমি।

ফুটপাত ছেড়ে উঠে আবার হাটা শুরু করলাম। হাঁটছি, কোনদিকে খেয়াল করা ছাড়াই হাঁটছি। মাঝে মধ্যে এর ওর সাথে ধাক্কাও লাগছে। দুই একজন আবার "পাগল নাকি" বলেও সম্বোধন করছে। কিছুই গায়ে লাগছে না এখন আর। ঘোর লাগা মুহূর্তটা আবার ফিরতে শুরু করেছে মনে হয়। সত্যিকারের একটা পরিচয় ছাড়াই আমি মিথ্যা পরিচয়ে এতটা বড় হয়ে গেছি, সেটাই ভাবছি বার বার। হাটতে হাটতে কখন এই কলোনির সামনে ল্যাম্প-পোষ্টের নিচে চলে এসেছি তা খেয়াল করি নি। খেয়াল হল যখন অন্ধকারটাকেই আপন মনে হচ্ছিল তখন।

আচ্ছা ঘুরে ফিরে এখানেই কেন ফিরে এলাম? এখানে তো আপন বলে কেউ নেই, সবই তো আমার অপরিচিত। সবকিছুই তো মিথ্যে......






Read More »
Tuesday, August 19, 2014

এক হৃদয় কারিগরের গল্প...




 





















────────────────────────────
♦ কমিক : হৃদয়কারিগর | Heartsmith
♦ সংগ্রহ : OtakuMame.com
♦ জঘন্য অনুবাদে : আমি :p

Read More »
 
;