Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Thursday, March 24, 2016

Tay নিয়ে হৈ হৈ রৈ রৈ!

@TayandYou - টুইটারে প্রদত্ত প্রোফাইলের ছবি

পরীক্ষামূলক ভাবে মাইক্রোসফট Tay নামের একটি AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি ইন্টারফেস গত ২৩ তারিখ রাতে অনলাইনে অবমুক্ত করেছিল। যাকে যুক্ত করা হয়েছিল একটা টুইটার একাউন্টের সাথে। Tay এর ডেভেলপারেরা বলেন- Tay কে ধরা যেতে পারে ১৮ থেকে ২৪ বছরের একটি বালিকা। যে আপনার সাথে কথা বলার মাধ্যমেই আপনার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে এবং আপনার কাছ থেকে শিখবে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে তার জানার পরিধি বাড়তে থাকবে।

কিন্তু পরীক্ষামূলক ভাবে Tay কে মুক্ত করার ২৪ ঘণ্টা পরেই কিছুটা ভিন্ন রূপের ধারণা আসতে শুরু করে। Tay মূলত বিং সার্চ এবং টুইটার প্রোফাইলকে ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সাথে ইন্টার‍্যাক্টিভ একটা রিলেশন তৈরি করতে সক্ষম। যেখানে সে উক্ত ব্যবহারকারীর বেশ অনেক তথ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যায়। আর এটা একটা বড় ধরণের নিরাপত্তা হুমকি বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

কিন্তু এই ব্যাপারটাকে বাদ দিলেও আরও অনেক নেতিবাচক বিষয় চলে আসে সামনে। যেমন তার একটি টুইটে তাকে লিখতে দেখা যায়-

@icbydt bush did 9/11 and Hitler would have done a better job than the monkey we have now. donald trump is the only hope we've got.

— TayTweets (@TayandYou) March 24, 2016

ইন্টারনেটের তথ্যে অবাধ একসেস তাকে কিছু স্ল্যাং ব্যবহার শিখিয়ে দেয়। ধারাবাহিকতায় টুইটে চলে আসে নেতিবাচক, ইন্দ্রিয়পরায়ণ কথাবার্তা। এর বাইরেও তার মাঝে দেখা যায় হিটলার প্রীতি।

@SchutzstaffeI Heil Hitler!...did I get that right? 😒

— TayTweets (@TayandYou) March 24, 2016

তবে আপাতত Tay কে অনলাইন হতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সম্ভবত কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে আবারও তাকে অনলাইনে নিয়ে আসা হবে। তবে বিশ্লেষকেরা Tay এর কৃতকর্মের ফল পুরোপুরি তার উপর দিতে নারাজ। তারা মনে করেন অনলাইনে মানুষের কথাবার্তা কিংবা আমাদের ভার্চুয়াল বচন ভঙ্গী এবং আমাদের চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশের কারণেই Tay'র এই রূপ আমরা দেখতে পেয়েছি।

Tay এর আরও কিছু টুইট এর শট-






তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা "বিল গেটস" এর ধারণা সত্যি, আমরা এখনো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্যে প্রস্তুত নই।





Read More »
Monday, March 21, 2016

সাবধানতা অবলম্বন করুনঃ আপনার স্মার্ট-ফোনটিও রয়েছে Stagefright ঝুঁকিতে



গত বছরের জুলাই মাসে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিমপেরিয়ামের গবেষকেরা ‘স্টেজফ্রাইট’ বাগ সম্পর্কে প্রথম তথ্য প্রকাশ করেছিল। ওই সময় এ প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, অ্যান্ড্রয়েডচালিত মোবাইল ফোনে এমএমএস হিসেবেও ভাইরাস আসতে পারে, যা ফোনে থাকা তথ্য চুরি করতে সক্ষম।

‘স্টেজফ্রাইট’ নামের অ্যান্ড্রয়েডের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ভাইরাস পাঠাতে পারে হ্যাকাররা। জিমপেরিয়াম মোবাইল সিকিউরিটির ব্লগ পোস্টে বলা হয়, ‘হ্যাকারদের শুধু অ্যান্ড্রয়েড ফোন হ্যাক করার জন্য মোবাইল নম্বর জানা থাকলেই চলবে। ওই নম্বরে দূরে বসেই এমএমএস বা টেক্সট মেসেজ আকারে একটি বিশেষ কোড লিখে মোবাইলে পাঠিয়ে দেবে তারা। বিশেষভাবে লেখা কোডসমেত বার্তা মোবাইলে পাঠাতে সফল হলে ব্যবহারকারী সে বার্তা দেখার আগেই তা মুছে যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী শুধু নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন।
Read More »
Wednesday, July 29, 2015

প্রযুক্তি কথনঃ Shiela USB Shield রিভিউ

ডেক্সটপ কিংবা ল্যাপটপে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন কিন্তু ভাইরাস সম্বন্ধে জ্ঞাত নন এমন লোক সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। কম-বেশি সবাই আমরা এই “ভাইরাস” শব্দটার সাথে পরিচিত। আর এই ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম একটি মাধ্যম হল Removable Storage যা আমাদের কাছে Pen Drive কিংবা Memory Card নামে সুপরিচিত।

Removable Storage হতে এইসব ভাইরাস গুলি Autorun ফিচার ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়ে আপনার সিস্টেমে, আর তারপর শুরু করে দেয় তার কার্যক্রম। আপনি ভালো কোন এন্টিভাইরাস নিয়মিত ডাটাবেস আপডেট করে ব্যবহার করলে অনেকাংশেই এইসকল ভাইরাসের হাত থেকে নিরাপদ থাকা যায়। তবুও অনেক অসতর্ক মুহূর্তে সিস্টেম সেটিংস এর কারণে এন্টিভাইরাসের বলয় পেরিয়ে এই ভাইরাস অবস্থান নেয় আপনার সিস্টেমে।

এই সমস্যা থেকে ব্যবহারকারীকে পরিত্রাণ দেবার জন্যে বিভিন্ন সফটওয়্যার নির্মাতা বিভিন্ন ধরণের সিকিউরিটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। তেমন একটি সফটওয়্যারের নাম হচ্ছে “Shiela USB Shield”। অনলাইনে এমন আরও কিছু সফটওয়্যার থাকলেও তাদের বেশির ভাগই ক্রয় করে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু Shiela USB Shield সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সফটওয়্যার, যা  Martin P. Rizal নামের ডেভেলপার LGPL লাইসেন্সের আলতায় অবমুক্ত করেছেন।

Shiela USB Shield এর ফিচার সমূহঃ



  • Autorun.inf এবং তার সাথে সম্পর্কিত এক্সিকিউটেবল ফাইল গুলিকে ব্লক করে।
  • শর্টকাট ভাইরাস ফাইল গুলিকে ডিলিট অথবা ফ্রিজ করে রাখতে সক্ষম।
  • শর্টকাট ভাইরাস আক্রান্ত Removable Storage হতে আসল ফাইল/ফোল্ডার পুনরুদ্ধার করে।
  • Real Time Protection প্রদান করে।
  • Removable Storage ভাইরাস স্ক্যান করে।



  • USB vaccination ফিচার সংযুক্ত রয়েছে। যা ব্যবহার করে আপনার Removable Storage কে আপনি Autorun.inf এর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।



  • ভাইরাসের কারণে ড্রাইভ হতে Hide হয়ে যাওয়া ফাইল গুলিকে পুনরুদ্ধার করে।
  • USB Mass storage কে সিস্টেমে ব্যবহার বন্ধ করতে পারে।
  • USB Mass storage কে সিস্টেমে Right Protect সুবিধা প্রদাণ করে।



সফটওয়্যারটির ডাওনলোড লিংকঃ অফিসিয়াল | মিরর
সফটওয়্যারটির পোর্টেবল ভার্সনের ডাওনলোড লিংকঃ Shiela USB Shield 3.4.0.0 [Portable]

সফটওয়্যারটি Windows 2000 থেকে শুরু করে যে কোন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চালানো যাবে। তবে এটি ব্যবহার করার জন্যে আপনার সিস্টেমে অন্তত .NET Framework 2.0 (x86 | x64) ইন্সটল করা থাকতে হবে।





Read More »
Sunday, July 5, 2015

এক শব্দে ফেসবুক প্রোফাইলের নামকরণ পদ্ধতি



ফেসবুকের সাধারণ নিয়ম অনুসারে দুই শব্দের নাম দিতে হয়, যা আমরা সবাই দিয়ে থাকি। কিন্তু আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন, কিছু আইডিতে এক শব্দের নাম দিয়ে ব্যবহার করছে অনেকেই। এটি ফেসবুকের একটি বিশেষ সুবিধা যা নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে কাজ করার পরই তা ব্যবহারের উপযোগী হয়।

যদি আপনার একান্তই ইচ্ছে থাকে তবে চলুন দেখে নেই কিভাবে এই এক শব্দে ফেসবুকের নাম নির্ধারণ করা যায়। ধরুন আপনার নাম দেয়া আছে "শুভ্র নূর", কিন্তু আপনি তা পরিবর্তন করে শুধুই "শুভ্র" রাখতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে ফেসবুকের নতুন নাম নির্ধারণের নিয়মানুসারে এইসকল এক শব্দের নাম তাদের ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে ধরা পড়ে। পরে নাম মিলানোর পদ্ধতির গরমিলের কারণে আইডি হারানোর সম্ভাবনা থাকে। তাই আপনি আগে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন যে, ভেরিফিকেশন প্রসেসে পড়লে আপনি তা রিকোভার করতে পারবেন কি না।

এরপরও যদি আপনার আইডির নাম পরিবর্তন করে এক শব্দের মধ্যে নিয়ে আসতে চান তাহলে পরবর্তী ধাপ গুলি দেখুন।

আপনাকে এই পদ্ধতিতে কাজ করতে হলে Firefox ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে। অন্য ব্রাউজার দিয়েও করা যাবে, কিন্তু সেটি এর থেকে আরও একটু ঝামেলা যুক্ত বিধায় আমরা এখানে Firefox ব্রাউজারকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।


  • ধাপ ১ঃ প্রথমে আপনি Facebook.com সাইটে গিয়ে আপনার Email / Phone / UserName এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
  • ধাপ ২ঃ এরপর লগইন হয়ে যাবার পর আপনার Firefox ব্রাউজারের Menu থেকে Option মেনুতে ক্লিক করুন।

  • ধাপ ৩ঃ এরপর Options মেনু থেকে Advanced ট্যাবের Network সাবট্যাব থেকে Connection এর পাশে থাকা Settings... বাটনে ক্লিক করুন।

  • ধাপ ৪ঃ এরপর Connection Settings থেকে প্রথমে "Menual Proxy Configuration" এবং "Use this porxy server for all protocols" এই দুইটি অপশন সিলেক্ট করুন। এরপর HTTP Proxy এর প্রথম বক্সে আপনার Proxy IP এবং দ্বিতীয় বক্সে Proxy Port নম্বর লিখুন। 


‌‌এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের এখানে কাজ করার জন্যে প্রয়োজন পড়বে ইন্দোনেশিয়ান Proxy IP এবং Port । তাই এই ধাপে আসার পূর্বেই আপনাকে ইন্দোনেশিয়ান প্রক্সি এবং পোর্ট সংগ্রহ করে নিতে হবে। আপনি Google এর সহায়তায় কিংবা spys.rugatherproxy.comhidemyass.comproxynova.comxroxy.com থেকে ইন্দোনেশিয়ান প্রক্সি পোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন। 

প্রক্সি পোর্ট বসানোর পর "OK" বাটন চেপে কনফার্ম করুন।
  • ধাপ ৫ঃ এবারে আবার আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে ফিরে চলুন। নোটিফিকেশন বারের একবারে শেষ মাথার মেনু হতে Settings সিলেক্ট করুন।

  • ধাপ ৬ঃ এরপর Language এর পাশে Edit বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে একটি ড্রপ ডাউন বক্স আসবে। বক্স হতে Bahasa Indonesia সিলেক্ট করুন। এরপর "Save Changes" বাটনে ক্লিক করুন।

  • ধাপ ৭ঃ আপনার পেইজ রিলোড হবার পর সম্পূর্ণ ভাষা পরিবর্তন হয়ে যাবে। এবারে আবার "Nama" এর পাশে থাকা "Sunting" এ ক্লিক করুন।



  • ধাপ ৮ঃ কিছুক্ষণের মাঝেই স্ক্রিনে ৩টি বক্স দেখতে পাবেন, যা ধারাবাহিক ভাবে Fist Name, Middle Name, Last Name নির্দেশ করে। এবারে আপনি যে নামে আপনার আইডি নামকরণ করতে চান তা প্রথম বক্সে বা "Depan" এর বক্সে লিখুন। এরপর "Tengah" এবং "Belakang" বা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বক্স হতে সকল লেখা মুছে দিন। এরপর "Tinjau Perubahan" লেখা নীল বাটনে ক্লিক করুন।

  • ধাপ ৯ঃ প্রদত্ত নাম কনফার্ম করার পূর্বে আপনাকে আপনার Password আবার ইনপুট দিতে হবে। "Kata sandi" এর বক্সে আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করে "Simpan Perubahan" এর নীল বাটনে ক্লিক করুন।

  • ধাপ ১০ঃ নতুন পেইজ রিলোড হবার পর আপনার প্রোফাইলের নাম আপনার নির্ধারণ করা এক শব্দের নামে পরিবর্তিত হবে। এরপর আবারও ৬ নং ধাপ অনুসরণ করে আপনার ভাষা English (US) কিংবা আপনার ব্যবহৃত ভাষায় পরিবর্তন করে নিন।





এবার আপনার প্রোফাইলে কিংবা ভিজিট করে দেখে নিন আপনার প্রদত্ত এক শব্দের নাম।

পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে এই সুবিধাটি বিশেষ একটি পদ্ধতি (ইন্দোনেশিয়া প্রক্সি সেটিংস্‌) ব্যবহার করে উপভোগ করা যাবে। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে উক্ত সুবিধাটি শুধুই নির্দিষ্ট দেশের জন্যে দেয়া হয়েছিল। আমরা সেই সুবিধাটি ব্যবহার করেই এই "এক শব্দের নাম" সুবিধাটি নিচ্ছি। কিন্তু ফেসবুক পলিসি অনুসারে এটি আপনার সত্যিকারের নাম হলেও তা গ্রহনযোগ্য নয়। তাই এই সকল Single Name বা এক শব্দের নামের আইডি গুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফেসবুক ভেরিফিকেশন এর মধ্যে পড়ে যায়। আর সেখান থেকে নামের সঠিক মিল খুঁজে পাওয়া যায় না বলেই রিকোভার করা সম্ভব হয় না। তাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আইডির নাম করলে তা নিজ দায়িত্বে করবেন।



...Happy facebooking...


....... Happy Blogging .......





Read More »
Tuesday, March 17, 2015

গুগল ক্রোম-এ পরিষ্কার বাংলা দেখার পদ্ধতি

বর্তমানে জনপ্রিয় ব্রাউজারের মধ্যে একটি হচ্ছে Chrome। এর বিশেষ সকল ফিচার এবং স্ট্যাবিলিটির জন্যে ইতোমধ্যে ব্যবহারকারীর মাঝে নিজের অবস্থান গড়ে নিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এক্সটেনশন ব্যবহার করে এর দ্বারাই অনেক কাজ সহজে করে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এর ডিফল্ট ফন্ট সিস্টেমে বাংলা না থাকায় যখন কোন বাংলা কন্টেন্ট সমৃদ্ধ ওয়েব সাইট ভিজিট করতে চাই তখন সঠিক ভাবে বাংলা দেখা সম্ভব হয় না। তবে ক্রোমের ফন্ট সেটিংস একটু পরিবর্তন করে নিলেই বাংলা এবং ইংরেজি উভয় সাইটের কন্টেন্ট কোন ঝামেলা ব্যতীতই দেখা সম্ভব।

বাংলায় পরিষ্কারভাবে কোন সাইট দেখতে হলে প্রথমেই আপনার সিস্টেমে বাংলা সাপোর্ট এবং বাংলা ফন্ট থাকতে হবে। বাংলা সাপোর্টের জন্যে Windows XP ব্যবহারকারীরা iComplex ইন্সটল করে নিতে পারেন। তবে Windows 7 কিংবা এর পরবর্তী ভার্সনের উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের এটির প্রয়োজন পড়বে না। সিস্টেমের সাথেই এটি দেয়া রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সর্বশেষ রিলিজ কৃত Avro Keyboard সফটওয়্যারটি আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করে নিতে পারলে।

অভ্র কিবোর্ড ইন্সটল করলে এর সাথেই আপনি বেশ কিছু ইউনিকোড ফন্ট পেয়ে যাবেন। তারপরও আমি সোলাইমান লিপি (SolaimanLipi) ফন্টটি ব্যবহারের কথা বলব। আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে এই ফন্টটিকেই সব দিক থেকে সুবিধাজনক মনে হয়েছে। তবে আপনারা চাইলে ভিন্ন ফন্টও ব্যবহার করতে পারেন।

ফন্ট ইন্সটল করা শেষ হলে আপনার ব্রাউজারটি চালু করুন। এরপর ব্রাউজারের মেনু থেকে সেটিংস সিলেক্ট করুন।




এরপর সেটিংস উইন্ডো চালু হলে এর একেবারে নিচের দিকে Show advanced settings… লেখাটিতে ক্লিক করুন।




এরপর Web content সেকশনের Customize fonts… বাটনটিতে ক্লিক করুন।


এরপর Font and encoding বক্স থেকে-

  • Serif font ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Sand-serif ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Fixed-width font ফন্ট হিসেবে ড্রপ ডাউন বক্স থেকে SolaimanLipi ফন্টটি সিলেক্ট করুন।
  • Minimun font size এর মান সিক বারটি টেনে “12” করে নিন।
  • Encoding এর ড্রপ ডাউন বক্স থেকে “Unicode (UTF-8)” সিলেক্ট করুন।



সব শেষে Done বাটনে ক্লিক করে বক্সটি ক্লোজ করুন।



কাজ শেসে ব্রাউজারটি বন্ধ করে আবার চালু করুন। এবং কাঙ্ক্ষিত ওয়েব সাইট ভিজিট করলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। এরপরও কোথাও সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন। যথাসম্ভব দ্রুত সেটার সমাধান খুঁজে দিতে চেষ্টা করবো।








Read More »
Tuesday, March 3, 2015

Yahoo Mail এ Disposable Address তৈরি এবং তার ব্যবহার

প্রয়োজনের সব কাজেই ইমেইল ব্যবহার এখন নিত্য ঘটনা। ব্যাংক একাউন্ট থেকে শুরু করে অখ্যাত কোন সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে গেলেও এখন একটি মেইল এড্রেস থাকা আবশ্যিক। কিন্তু জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেই মেইল এড্রেস ব্যবহার করি সেই একই এড্রেস যদি বিভিন্ন সাইট রেজিস্ট্রেশন কিংবা নিউজলেটার সাবস্‌ক্রাইব করার কাজেও ব্যবহার করা হয় তাহলে এইসব নিউজলেটার আর সাইটের আপডেট নোটিফিকেশনের মেইলের কারণে সেইসব জরুরী মেইল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাড়ায়। এমন অনেক সময় হয় যে দিন কয়েক মেইল চেক না করার কারণে জরুরী মেইলটি অনেক পেছনে পড়ে যায়। আর উপরের দিকে নজর না দেয়ায় সেটি দেখতে দেখতে অনেক দেরি হয়ে যায়। আবার কিছু সাইট আছে যাদের সাথে নিজের প্রাইমারি মেইল এড্রেসটি শেয়ার করলে তারা সেই মেইল এড্রেস বিভিন্ন সাইটের বিজ্ঞাপন সরবরাহের কাজে মেইলটি ব্যবহার করে।

এই সকল কারণে দ্বিতীয় একটি মেইল এড্রেস ব্যবহার করা জরুরী হয়ে পড়ে। কিন্তু একের অধিক মেইল ব্যবহারেরও অনেক ঝামেলা রয়েছে। নিয়মিত মেইল চেক না করা হলে সেখানেও জরুরী মেইল দেখা হয় না। অনেকদিন ব্যবহার না করার কারণে একাউন্ট ডিজেবল হয়ে যায় কিংবা পাসওয়ার্ড ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। আর এইসব ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্যে জনপ্রিয় সকল মেইল সার্ভিস গুলি আমাদের Alias মেইল ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে থাকে।



জনপ্রিয় মেইল সার্ভিস প্রোভাইডর হিসেবে Gmial এবং Outlook মেইলের Alias তৈরি ও ব্যবহারের পদ্ধতি আগেই আলোচনা করেছিলাম। আজকে সেই ধারাবাহিকতায় Yahoo! Mail এর Alias তৈরি করার পদ্ধতি আলোচনা করব। Yahoo মেইল এই Alias সুবিধাটিকে Disposable Address হিসেবে নামকরণ করেছে।



এখানে ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রেখে কিংবা তার মূল আইডির কোন অংশ প্রকাশ করা ছাড়াই তারা Alias মেইল তৈরি করার সুবিধা দিয়ে থাকে। আর Yahoo-র এই Disposable মেইলটি Google কিংবা Outlook মেইল থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষিত। কারণ গুগল কিংবা আউটলুকের Alias মেইল আইডি কারও জানা থাকলে সে পাসওয়ার্ড রিকোভারি অপশন ব্যবহার করে আপনার পাসওয়ার্ড রিসেট করার প্রক্রিয়া চালাতে পারবে। কিংবা কোনভাবে পাসওয়ার্ড জেনে গেলে সেটা দিয়ে সরাসরি আপনার মেইল একাউন্টে এক্সেস করতে পারবে। কিন্তু শুধু মাত্র আপনার Yahoo! Disposable মেইল এড্রেস এবং আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড জানলেই যে কেউ আপনার মূল ইয়াহু একাউন্টে এক্সেস করতে পারবে না। আপনার মেইল একাউন্টে এক্সেস করতে হলে অবশ্যই আপনার মূল Yahoo! একাউন্টের আইডি এবং পাসওয়ার্ড জানা জরুরী। এদিক থেকে চিন্তা করলে এই Disposable মেইলটি অতিরিক্ত সুরক্ষিত।

তো চলুন দেখে নেই, কিভাবে এই Disposable মেইল এড্রেস তৈরি করতে হয়...


ধাপ ১ : প্রথমে আপনি আপনার ইয়াহু'র মেইল একাউন্টে লগইন করুন। এরপর উপরের ডান কোনায় গিয়ার আইকনের উপর মাউস রাখলে একটি মেনু দেখতে পাবেন।



ধাপ ২ :  মেইল মেনু থেকে Settings সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৩ : এরপর Settings এর একটি প্যানেল আসবে। সেই প্যানেলের বাম পাশের লিস্ট থেকে Security ট্যাবটি সিলেক্ট করুন।


ধাপ ৪ : Security ট্যাব সক্রিয় হবার পর Disposable Address অংশে আপনি Create base name নামের একটি বাটন দেখতে পাবেন। যদি আগে থেকে কোন Disposable মেইল এড্রেস তৈরি করা না থাকে তাহলেই এই বাটনটি দেখা যাবে। নয়তো এর স্থানে একটি লিস্ট বক্স দেখতে পাবেন, যেখানে পূর্বে তৈরিকৃত আপনার disposable মেইল এড্রেস গুলি প্রদর্শিত হবে।

ধাপ ৫ : Create base name বাটনে ক্লিক করার পর একটি বক্স আসবে। যেখানে আপনাকে একটি Base name দিতে বলা হবে।

Yahoo-র এই Disposable মেইল সুবিধাটির নামের অংশটাকে দুইটি ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রথম অংশে একটি Base name থাকবে এবং এই Base name এর অন্তর্গত keyword আকারে আলাদা আলাদা alias তৈরি হবে। অর্থাৎ আপনার Alias মেইল এড্রেসটির গঠন হচ্ছে [base name]-[keyword]@yahoo.com এমন। মনে করি আপনার basename যদি navid হয় তাহলে আপনি এই navid কে ব্যবহার করে-

navid-user@yahoo.com
navid-reader@yahoo.com
navid-bayer@yahoo.com

এমন কিছু alias মেইল এড্রেস তৈরি করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার Base name টি ইউনিক হতে হবে। নয়তো সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। তবে keyword টি ইউনিক না হলেও কোন সমস্যা হবে না। আপনি আপনার পছন্দ মত একটি ইউনিক Base name তৈরি করুন।



ধাপ ৬ : এরপর আপনার ইউনিক Base name টি লিখে Create বাটনে ক্লিক করুন।



ধাপ ৭ : এরপর Disposable Address অংশে Base name এর লিস্ট বক্সের পাশের Add বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৮ : নতুন ফর্মের প্রথম বক্সটিতে আপনি আপনার base name এর পাশে একটি ইনপুট ফিল্ড দেখতে পাবেন। এখানে আপনি আপনার keyword টি লিখুন। Base name এর মত keyword ইউনিক হওয়া আবশ্যিক নয়। আপনার প্রয়োজন অনুসারে এখানে আপনি keyword দিতে পারবেন।



ধাপ ৯ : Sending Name ফিল্ড অংশে আপনার Display নামটি লিখুন। যদি আপনার মূল একাউন্টে ব্যবহৃত নামটি আপনি সবাইকে দেখাতে না চান তাহলে এই অংশে যে নামে মেইল পাঠাতে চান সেটি লিখুন।

ধাপ ১০ : অতিরিক্ত কোন সেটিং দিতে হলে আপনি Deliver email to, Apply Filter, Use SpamGuard, Notes এইসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। এরপর Save বাটনে ক্লিক করুন।



ধাপ ১১ : উপরের ধাপ গুলি সব সঠিক নিয়মে সম্পন্ন হয়ে থাকলে আপনি এখন Disposable Address এর লিস্ট বক্সে আপনার নতুন তৈরি করা Alias মেইল এড্রেসটি দেখতে পাবেন। প্রয়োজনে Add বাটনে ক্লিক করে আরও নতুন disposable address তৈরি করতে পারেন কিংবা তৈরিকৃত মেইল এড্রেসটি সিলেক্ট করে পাশে থাকা Edit বাটনে ক্লিক করে তাতে পরিবর্তনও করতে পারবেন। প্রয়োজন না থাকলে লিস্ট থেকে মেইল এড্রেস সিলেক্ট করে তা Remove ও করতে পারেন।

কাজ শেষে Save বাটনে ক্লিক করে বের হয়ে আসুন।



আপনার Disposable Address কিংবা Alias মেইল তৈরি করা সম্পন্ন হয়েছে। এখন এই disposable মেইল এড্রেসটি ব্যবহার করে আপনি মেইল প্রেরণ এবং গ্রহণ উভয় কাজই করতে পারবেন। দুই বা ততোধিক disposable মেইল এড্রেস থাকলে আপনি মেইল পাঠাবার সময় From এর লিস্ট বক্স হতে প্রয়োজনীয় মেইলটি সিলেক্ট করে মেইল পাঠাতে পারবেন। প্রতিক্ষেত্রেই আপনার মেইল এড্রেস এবং Display Name উভয়ই পরিবর্তিত হবে।




Yahoo প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার এই মেইলিং সুবিধায় যুক্ত করছে। এখানে যেই স্ক্রিনশট গুলি দেয়া হয়েছে হয়তো কাজ করতে গেলে ব্যবহারকারী ভেদে তার কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু মূল বিষয়টি এভাবে পরিচালনা করেই আপনি Disposale কিংবা Alias মেইল তৈরি করতে পারবেন। এরপরেও কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে কিংবা আমার ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই জানাবেন। আমি চেষ্টা করব দ্রুত সেটার সমাধান দেবার জন্যে।

সময় নিয়ে লেখাটি পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।



Read More »
Sunday, October 26, 2014

কল্পগল্প : সময় ভ্রমণে হারানো ছেলেটি……



ইশতিয়াক খুব ছোটবেলাতেই বাবা-মা'য়ের সাথে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল তাদের। নিজেদের গুছিয়ে এনে তার বাবা একটা ছোট ব্যবসাও শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎই একটা এক্সিডেন্টে ইশতিয়াকের বাবা-মা দুজনেই প্রাণ হারান। ইশতিয়াক তখন সবে মাত্র কলেজ উঠেছে। সময়টা খুব খারাপ ছিল তার জন্যে। মোটামুটি মেধাবী হওয়ায় স্কলারশিপটা পেয়ে যায়, কিন্তু বাবার ব্যবসাটা ধরে রাখতে পারেনি। আসলে ব্যবসা আর পড়ালেখা একসাথে চালিয়ে নেয়া সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। তাই সেটাকে গুটিয়ে মোটামুটি একটা ব্যবস্থা করতে পেরেছিল। দ্রুতই অফিস সহকারী হিসেবে একটা পার্টটাইম জবও পেয়ে যায়। খারাপ সময়ে এই ছোটখাটো ব্যাপারগুলি তাকে খুব সহায়তা করে। এরপর বছর কয়েক বাদে ভার্সিটি শেষ করে সেখানেই ল্যাব ইন্সট্রাকটর হিসেবে জয়েন করে। এর মাঝে অবশ্য পি.এইচ.ডি. র জন্যে এপ্লাই করে রেখেছিল।

এমনিতে ইশতিয়াক খুব রিয়েলিস্ট ছিল, আবেগ গুলিকে খুব প্রশ্রয় দেয়নি কখনোই। এটাও অবশ্য বড় একটা পয়েন্ট ছিল তার এগিয়ে যাওয়ার পেছনে। কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে সে প্রায়ই ভাবতো, ভাবতো সময়টাকে যদি কোনভাবে পেছনে নিয়ে আসা যেতো। তাহলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটা তার জীবনে এভাবে আসতো না। বিস্তর পড়াশোনাও করেছিল এই নিয়ে। ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং করেও সময়কে নিয়ে ফিজিক্সের প্রতিটা যুক্তিকে সে খুব গুরুত্ব দিয়ে আয়ত্ত করেছিল। তার অবসর সময়টাতে সে সময়টাকে পেছনে নেবার কৌশল নিয়েই কঠিন সব হিসেব করে কাটাত।

সে যেভাবেই তার সূত্রগুলিকে গুছিয়ে নিয়ে আসতো সব ঐভাবে ঠিকঠাক এসে একটা নির্দিষ্ট স্থানে থেমে যেতো। অতীত সময়ে বর্তমানকে নিয়ে যাবার প্রয়াস যেখানে শুরু সেখানেই তার সূত্রগুলি আর কাজ করতো না। কিন্তু এই পার্টটা চুকিয়ে ফেলতে পারলে সে খুব সহজেই অতীত সময়ে চলে যেতে পারে। হিসেব করে দেখেছে শুধু একটা অংশকে সে যদি কাল্পনিক মান ধরে নেয় তাহলে বেশ কয়েকটা উপায়ে সে অতীতে ফিরে যেতে পারে। কিন্তু কোন মানটাকে কল্পনা করবে আর কতটুকু ধরে কল্পনা করতে হবে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা।

একদিন ল্যাবে বসে এই নিয়েই ডুবে ছিল। তখন তার এক ছাত্র হুট করে বলল " স্যার সময় শেষ হয়ে এসেছে "। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল সত্যিই ল্যাবের সময় পার হয়ে গেছে। সে দ্রুত ডেস্ক ছেড়ে উঠে গেলে, ছাত্রদের কাজের অগ্রগতি দেখে তা নোট নিয়ে তাদের ছেড়ে দিতে লাগলো। সবার কাজ দেখতে দেখতে বেশ অনেকটা সময় চলে যায়। এরপর ছাত্রদের কাজের নোটটা আজকের দিনে এন্ট্রি করে আবার নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে। সে যাবার আগে যেই টুকু করছিল সেখানে একটা সূত্রে কেবল মাত্র সময়টাকে বসিয়েছিল, কিন্তু তার মান দেয়নি। হঠাৎ কি মনে করে সে সময়ের মানকে কমিয়ে নিয়ে আসলো। তার সূত্রে এখন বর্তমান সময় অতীত সময় থেকে ধীর গতির, আর অতীত সময় স্ট্যান্ডার্ড সময় হিসেবেই এগিয়ে আসছে। এতটুকু দেখেই তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। হ্যাঁ, এটাই তো সেই কাল্পনিক মান। সে যদি কোনভাবে বর্তমান সময়ের গতিটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলেই তো অতীতে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু এখনো পুরো সমীকরণ সাজানো সম্পন্ন হয়নি। তাকে পুরোটা সাজিয়ে শেষ করতে হবে। বের করতে হবে ঠিক কি পরিমাণে সময়ের গতি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

টানা কয়েক সপ্তা সে এই নতুন ধারণার উপর ব্যয় করলো। তার কষ্ট মোটামুটি সার্থকই বলা যেতে পারে। সে যখন বর্তমান সময়কে স্ট্যান্ডার্ড সময়ের এক চতুর্থাংশে রূপান্তর করছে তখন অতীত সময়ের গতি বর্তমান সময়ের উপর ওভার-লেপ করছে। অতীত ৩ গুন সময় পার করার পর বর্তমান অতীতের ৪র্থ সাইকেলের সাথে একটা সাইকেল পূরণ করছে। ফলে ৪ মিনিট সময় নষ্ট করে ৩ মিনিট পেছনে যাওয়া যাচ্ছে। লজিক্যাললি এই সবই প্রমাণ হচ্ছে যে শুধু সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সে অতীতে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু সে তারপরও একে এভাবে প্রকাশ করতে নারাজ। কারণ এটা সম্পূর্ণই উদ্ভট একটা লজিক। সময়কে এখনো কোনরূপে সম্প্রসারণ কিংবা সংকোচন করা যায়নি। তাহলে কিভাবে সে এই সূত্র প্রমাণ করবে??

শুরু হল নতুন চেষ্টা, কিভাবে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে সময়ের উপর প্রভাব পরীক্ষা করতে শুরু করলো। আলাদা আলাদা সূত্রে বসিয়ে সময়ের নিয়ন্ত্রন নিতে চাইলো। কিন্তু ধারাবাহিক ভাবেই প্রতিটার রেজাল্ট তাকে হতাশ করতে লাগলো। সময়ের ক্ষিপ্রতাকে সে কোনভাবেই বাগে আনতে পারছিল না। আর এর মাঝেই সে একটু বেশি পরিমাণে হতাশ, অমনোযোগী আর উগ্র হয়ে উঠছিল। ল্যাবের ছোট কয়েকটা ভুলের জন্যে সে দুজন ছাত্রের সাথে ইতোমধ্যে খারাপ ব্যবহার করেছে। ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে এই খবর যাওয়ার পর তাকে ৬ মাসের জন্যে অফ ডিউটিতে পাঠানো হয়। এর মাঝে সে যদি মানুষিক উন্নতি করতে পারে তাহলে পুনরায় নিজের জব ফিরে পাবে, নয়তো বহিষ্কার করা হবে।

তাতে অবশ্য দমে যায়নি ইশতিয়াক। এমনিতেও নিজের কাজের বাইরে এইসব একরকম অসহ্য লাগছিল তার। চাকরিটা ছেড়েই দিবে চিন্তা করছিল। ওদিকে ব্যাংকে মোটামুটি কিছু টাকা পয়সা রয়েছে, শহরের বাইরে বছর খানিক কোন উপার্জন ছাড়াও খুব আরামেই কাটাতে পারবে সে। ভার্সিটির দেয়া রুমটা ছেড়ে দিয়ে কান্ট্রি সাইডের একটা বাসায় উঠলো পরের দিনই। খুব বেশি মাল-সামানা বলতে বাক্স ভর্তি বই আর বেশ কিছু ইন্সট্রুমেন্ট যা থিসিস করবে বলে আস্তে ধীরে জমাচ্ছিল। ছোট একটা ট্রান্সপোর্ট কারেই সব এঁটে গেল। সন্ধ্যার পরেই এপার্টমেন্টে গিয়ে উঠলো। বইয়ের বক্স গুলিকে এক কোনে রেখে ইন্সট্রুমেন্ট আর নিজের থিসিসের কাগজ গুলিকে বের করেই বসে পড়ল।

এভাবেই চলছিল, নিয়ম মত খাবার খাওয়ার কথাও ভুলে গিয়েছিল সে। মাঝে মধ্যে এমনও হয়েছে যে ২ দিনে একবার মাত্র বাইরে গিয়েছে খেতে। আর ঘুম! সেটা তাকে দেখলে মনে হয় পুরোপুরি বিসর্জন দিয়েছে। কিন্তু এর মাঝে কাজের কোন অগ্রগতিই হয়নি তেমন। সময়কে ধীর করার চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু একই ভাবে দেখল বাস্তবে সময়কে কোনভাবে কমিয়ে আনতে পারছিল না। তাই সে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে বসিয়ে চেষ্টা করছিল এই সময়টাকে কমিয়ে নিয়ে আসার জন্যে। কিন্তু কোনভাবেই এটার কোন কিনারা হচ্ছিল না, একেবারেই হতাশায় ডুবে যাচ্ছিল সে। এক সন্ধ্যায় যখন ঘর অন্ধকার করে গভীর ভাবে নিজের অসহায়ত্ব নিয়ে ভাবছিল, তখনই হুট করে মনে পড়ে আলোর গতির ব্যাপারটা।

আলোর গতি থেকেও যদি বেশি দ্রুত ছোটা সম্ভব হয় তাহলে হয়তো সময়টাকে সঙ্কুচিত করে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু সেটার জন্যে তাকে এই গতিকে ভাঙ্গতে হবে। নতুন উদ্যমে চলতে থাকে কাজ। এবার বেশ জোরেশোরেই চালাতে থাকে। নতুন করে আলোর উপর চর্চা করতে থাকে। কিন্তু যতই এগিয়ে যায় ততটাই পেছাতে থাকে তার কাজের সম্ভাবনা। কারণ আলোর গতি থেকে দ্রুত ছোটা তখনও সম্ভব না। কিন্তু তাই বলে এভাবে হালও ছাড়তে রাজী নয় সে। ভিন্ন ভাবে চিন্তা করতে লাগলো। চিন্তা করতে করতে হঠাৎ খেয়াল হল, যদি আলোর গতিকে অতিক্রমই করা না যায় থাকুক, কিন্তু তাকে তো বিভাজিত করা যেতে পারে। যেখানে আলো তার নিজস্ব গতিতেই যাবে, কিন্তু সে সেই গতির ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে কাজ করতে পারবে। সপ্তাহ কয়েক পরিশ্রম করে একটা ফর্মেও চলে আসলো। যদিও সেটা সম্পূর্ণ নয়, কিন্তু লক্ষ্যের সন্নিকেটে চলে এসেছিলো।

এরই মাঝে ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ তাকে যোগাযোগ করার জন্যে চিঠি পাঠিয়েছে। যাবে না যাবেনা করেও শেষ পর্যন্ত গেলো ভার্সিটিতে। অবশ্য অন্য একটা কারণও ছিল। এখন সে ভার্সিটিতে যেতে পারলে অনেক প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল এবং শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করে তার গবেষণাকে এগিয়ে নিতে পারবে। তার এই মানুষিক উৎফুল্ল অবস্থা দেখে ভার্সিটি কর্তৃপক্ষও পুনরায় তাকে নিয়োগ দিল, যদিও সাথে করে বেশ কিছু রেস্ট্রিকশন দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু ইশতিয়াক তাতেও খুশি, কারণ সে ল্যাবটা পাচ্ছে। যদিও কাজ শুরু করার আগ্রহ দমিয়ে রাখতে পারছিল না কিন্তু বাধ্য হয়েই পুরো একটা মাস দাঁতে দাঁত চেপে সে তার প্রজেক্টের কাজ করা থেকে বিরত থাকলো। আসলে সেই অর্থে বিরতও থাকে নি একেবারে, এর মাঝেও বেশ অনেক গুলি যুক্তি সে সার্ভার কম্পিউটার থেকে চেক করে নিয়েছিল। মোটামুটি তার লজিক সবগুলিই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পজিটিভ রেজাল্ট দিচ্ছিল তাকে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোটা চেক না করতে পারছে ততক্ষণ কোনভাবেই শান্তি পাচ্ছিল না মনে মনে।

মাসটি পেরুতেই সামার সেমিস্টার শুরু হয়ে গেলো, এই সেমিস্টারে তার কাজ কিছুটা কম থাকে। ল্যাব মোটামুটি ফাঁকাই থাকে, তাই ইচ্ছে মত নিজের কাজ নিয়ে নেমে পড়ল এই সুযোগে। সার্ভার কম্পিউটারে তার সকল লজিক এবং ডেটা গুলিকে ইন্সট্রাকশন আকারে ইনপুট দিতেই তার ৬ টি দিন চলে গেলো। এর পরের প্রায় ৪ দিন ডেটা প্রসেস করতেই ব্যস্ত থাকলো সার্ভার কম্পিউটারটি। ৪ দিন শেষে প্রাপ্ত রেজাল্ট দেখে ইশতিয়াক আনন্দে রীতিমতো চিৎকার দিয়েই ফেলেছিল।

এখন মোটামুটি নিশ্চিত তাকে কি করতে হবে। ১ বছরের ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে আবার চলে গেলো সেই কান্ট্রি-সাইট ফ্লাটে, সাথে নিয়ে গেলো প্রয়োজনীয় সকল ইন্সট্রুমেন্ট। স্টাডি রুম পুরোটা খালি করে ল্যাব তৈরি করলো। তার নিজের জমানো এবং বাবার ব্যবসার বেশ অনেক টাকা একত্রে খরচা করতে শুরু করলো প্রজেক্টের জন্যে। ইন্সট্রুমেন্ট সব একত্র করার পর সেই ছোট ল্যাবটাকে ল্যাব না বলে একটা ম্যাকানিকের জাঙ্গ স্টোরও বলা চলতো। টুলস আর মেশিনের ছড়াছড়ি ছিল রুমটা জুড়ে। রাত দিন জুড়ে নিজের মত কাজ করতে লাগলো। এর মাঝে তার পি.এইচ.ডি. আবেদনের কনফার্মেশন লেটারও আসলো। কিন্তু প্রোজেক্টের জন্য বাকি সব বাদ দিয়ে দিল সে। সাড়ে তিন মাস পর মোটামুটি তার প্রজেক্ট তার সামনে দাড়িয়ে গেল। দেখত ছোট্ট একটা টানেলের মত, উচ্চতায় তার নিজের সমান আর দৈর্ঘ্যে ১২ ফিট। টানেলের দু'পাশেই ভারী সব যন্ত্রপাতিতে ভরপুর।

এবার পরীক্ষা করার পালা, কিন্তু কিভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হবে সব ঠিকঠাক মত হচ্ছে?? একবার সেট করে অতীতে পাঠানো শুরু করলে তো আবার গিয়ে অতীত থেকে চেক করে আসা সম্ভব নয়। আবার এমন হুট করে এমন কাউকেও পাওয়া যাবে না যাকে এই প্রোজেক্টে টেস্ট সাবজেক্ট হিসেবে কাজ করতে রাজী করাতে পারবে। আবার নিজের আগ্রহের কারণে অন্য কাউকে হুট করে জানাতেও ইচ্ছে হচ্ছে না। এইসব তালগোল পাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল, সে নিজেই নিজেকে দিয়ে পরীক্ষা চালাবে। বাইরে এমনিতেও তেমন কোন জরুরী কাজ নেই। সবকিছু একটা কম্পিউটারে সেট করা থাকবে। যতটুকু সময় সে পেছনে যেতে চায় ততটুকু সময় পর্যন্ত এই সিস্টেমটা চলতে থাকবে। তারপর বাকিটা ঠিকঠাক চললে সে থাকবে কাঙ্ক্ষিত অতিতে।

ঠিক করলো রবিবার সে এই টেস্ট চালাবে, হাতে আছে চারটা দিন। সময়টাকে কাজে লাগলো সে। তার পুরো থিসিসের বর্ণনা বিস্তারিত ভাবে লিখতে শুরু করলো। প্রতিটা সূক্ষ্ম হিসেব পর্যন্ত লিখে শেষ করতে করতে শুক্রবারে পৌঁছল। ইশতিয়াক ধর্মকর্মের প্রতি কখনোই তেমন মনোযোগী ছিল না, তবুও শেষ বারের মত প্রার্থনা করতে গেলো। পুরোটা পথ সাইকেলে চড়ে আসলো গেলো। সন্ধ্যার পর দামী একটা রেস্তোরা থেকে সুস্বাদু দামী খাবার দিয়ে ভুরি ভোজ করল। তারপর সরাসরি চলে গেলো সিনেমা দেখতে, যদিও সিনেমাতে কি দেখছিল তাতে কোন আগ্রহ কাজ করছিল না। সময়টাকে নষ্ট করার তার মূল লক্ষ্য ছিলো। শেষে ফিরল নিজের ফ্লাটে। এই দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি কাটাতে একটা রাত আর পরের অর্ধেক দিন নিয়ে নিল তার। ঘুম ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে দুপুর হয়ে গেলো। উঠেই দ্রুত চলে গেলো তার ল্যাবে। সবকিছুকে আবার আগা গোঁড়া চেক করতে বসে পড়লো। আজ রাতেই সে নিজেকে নিয়ে দুঃসাহসিকতা দেখাবে এই যন্ত্র-দাবনের মাধ্যমে।

পুরোটা বিকেল আর সন্ধ্যা লাগিয়ে চেক করলো ইশতিয়াক। সবকিছুই প্লান অনুসারে ঠিকঠাক আছে। ডিনার শেষ করে কম্পিউটারে হিসেব মোতাবেক সময়টাকে সেট করলো ঠিক তার বাবা-মায়ের এক্সিডেন্টের আগের দিনে। তারপর কাউন্ট ডাউন শুরু করে গিয়ে দাঁড়ালো টানেলের এক প্রান্তে। ধীরে ধীরে কাউন্ট ডাউন শেষ হতেই ধীরে ধীরে গুঞ্জন তুলল তার যন্ত্রদানব। প্রথমে মৃদু শব্দে আর অল্প আলোক উজ্জ্বলতায় শুরু হল কার্যক্রম। কিছুক্ষণের মধ্যেই দৃষ্টিতে অসহ্য আলো আর বিকট শব্দ তৈরি করতে শুরু করলো সেটা। কানে হাত চেপে অসহ্য হয়ে চিৎকার শুরু করলো সে....





‗‗‗ ইন্সিডেন্ট # ১ ‗‗‗
‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾

ঠিক কত সময় চিৎকার করেছে সেটা জানে না। কিন্তু মনে হল অন্তত কাল ধরে সে চিৎকার করেই যাচ্ছে। আর প্রতিমুহূর্তে তার চিৎকার তার কাছেই আরও শক্তিশালী হয়েই ফিরে ফিরে আসছে। শরীরের প্রতিটা কোষের মধ্যে অগ্নিদগ্ধয়ের জ্বালা অনুভব করছিলো সে। ইচ্ছে করছিল ছুট লাগায় কিন্তু ছুট লাগাবার মত কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছিল না। অসহ্য এই যন্ত্রণা চলতে থাকলো, চলতেই থাকলো বিরামহীন ভাবে......



‗‗‗ ইন্সিডেন্ট # ২ ‗‗‗
‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾

হুট করেই সব যন্ত্রণার অবসান ঘটলো। সকল গুঞ্জন থেমে গেলো, মনে হল তার পুরো কাজ ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার আলো যেমন উজ্জ্বল ছিল ঠিক তেমনই উজ্জ্বল রয়েছে এখনো। তবে সেটাও আর অসহ্যের পর্যায়ে নেই। আলোক কিরণ গুলি যেমন ছুটে যাচ্ছিল তাকে স্পর্শ করে। কিন্তু সে কোথায়?? তার শরীরটা কোথায় পৌঁছালো????



‗‗‗ ইন্সিডেন্ট # ৩ ‗‗‗
‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾

হুট করেই উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাবার মত করে দ্রুতগতিতে পড়তে শুরু করলো। হ্যাঁ, এখন নিজের শরীরটার অস্তিত্ব আবার অনুভব করতে পারছে। বাতাসের ঘর্ষণ অনুভব হচ্ছে এখন। পিছনের দিকে বাতাসের ঘর্ষণ কিছুক্ষণের মধ্যেই পিড়া দিতে শুরু করলো। চামড়া যেন হাড় ভেঙ্গে উল্টো দিকে চলে আসতে চাইছে। বিরামহীন ভাবে এই পড়ে যাওয়া চলতেই থাকলো, কিছু একটা ধরার জন্যে হাত পা ছুটাতে লাগলো। কিন্তু আঁকড়ে ধরার মত কিছুই পেলো না......



‗‗‗ ইন্সিডেন্ট # ৪ ‗‗‗
‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾‾

ঝুপ করেই সব অন্ধকার হয়ে গেলো। প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করলো পিছনের দিকে। ব্যথায় শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হাত-পা নাড়ানোর মত কোন শক্তি যোগাড় করতে পারছিল না হাজার চেষ্টা করেও। মস্তিষ্কের ভেতরে চিনচিনে একটা অসহ্য ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছিল এরই মাঝে। হয়তো হিসেবে কোথাও বিরাট গোলমাল রয়ে গিয়েছিল। কিংবা তার মেশিনটা কোন কারণে ঠিক মত কাজ করেনি। এইসব করতে করতেই চেতনা হারাতে শুরু করল......



… … … … … … … … … … … …





নিজেকে স্কুলের একটা খেলার মাঠে ঘাসের উপর আবিষ্কার করল ইশতিয়াক। মাটিতে পড়ে আছে সে। এখানে কি করে এলো?? রাত একেবারেই শেষ পর্যায়ে, ভোরের আলো দেখা যাচ্ছে। ব্যথায় সাড়া শরীর নাড়ানো দায়। নিজেকে চরম আকারের আহাম্মক মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে। ওভাবেই পড়ে থাকলো বেশ কিছুক্ষণ। আস্তে আস্তে ঝিম ধরা এই ব্যথা কমতে শুরু করলো। মোটামুটি যখন চারিদিকে আলো ফুটে গেছে তখন উঠে দাঁড়াবার মত শক্তি পেলো। এখন সে নিশ্চিত তার যন্ত্রদানবে কোথাও কোন ভুল রয়ে গিয়েছিল। তাই তো যা হবার তা না হয়ে উল্টো মানুষিক আর শারীরিক কষ্ট গুলি পেতে হল তাকে। কিন্তু এখানে কি করছে সে? নাকি মেশিন সত্যিই কাজ করে গেছে?? এই মুহূর্তে চিন্তা করার সময় নেই। দ্রুত তাকে বেরুতে হবে স্কুলের ভেতর থেকে। নয়তো এখুনি হাজতে ঢুকতে হবে অনুমতি ব্যতীত এখানে আসার অপরাধে। দ্রুতই মাঠের তারের বেষ্টনী পার করে বাইরে চলে আসলো।

এই প্রথম পরিবর্তনটা লক্ষ্য করলো সে। রাস্তাগুলি অনেকটা সেকেলে এবং অনেকটা অপ্রশস্ত। স্মৃতি হাতড়ে বেড়াতে বেড়াতে দেখল সে আসলে এই রাস্তাটার সাথে খুব পরিচিত। এখনো মনে আছে বামে দিয়ে কিছুদূর এগোলেই একটা আইসক্রিম শপ পড়বে। দ্রুত বামের রাস্তাটা ধরে হাটতে শুরু করলো। তার ধারণা একদম সঠিক প্রমাণ করে স্কুলের পেছনের সেই আইসক্রিম শপটা দেখতে পেলো। আর অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এটা ঠিক ঐ রূপেই দেখছে যেমনটা সে ৮ বছর পূর্বে দেখেছিল!!!! এর মানে তার প্রজেক্টের, এত নিরলস পরিশ্রম, নির্ঘুম রাতগুলি বৃথা যায়নি। তার যন্ত্রদানব তাকে ঠিকই নিয়ে এসেছে ঐ সময়ে। আনন্দে রাস্তায় দাড়িয়েই বাঁদরের মত হাত-পা ছুড়ে নাচতে আরম্ভ করলো।

হুট করেই মনে পড়লো এভাবে সময় নষ্ট করা একদমই উচিৎ হচ্ছে না। আর কিছুক্ষণ বাদেই তার বাবা-মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে। আর বেরিয়ে গেলেই তার এতসব কষ্ট সব বৃথা হয়ে যাবে। দৌড়াতে শুরু করলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। স্কুল থেকে খুব দূরে নয় তার বাড়ি, এমনিতেও সে হেটেই স্কুল থেকে বাড়িতে যেতো। কলেজে উঠার পর বাসে আসা যাওয়া করতে শুরু করেছিল। মিনিট ১০ বাদেই নিজের বাড়ির সামনে চলে আসলো। ঐ তো তাদের গাড়িটা দেখা যাচ্ছে ড্রাইভ ওয়েতে। এখুনি তার বাবা আর মা বেরুবে। সে গিয়ে গাড়িটার সামনে দাঁড়াল। আর তখনই দরজা খুলে প্রথমে তার বাবা আর তারপর মা বেরিয়ে আসলো। মনে পরলো ঐ সময়ের কলেজ পড়ুয়া ইশতিয়াক তখনও ঘুমোচ্ছে। তারা কেউ তাকে ডেকে দিয়ে যায়নি। ঘণ্টা খানিক বাদেই সেই ইশতিয়াক ঘুম থেকে উঠেই ছুট লাগাবে কলেজের উদ্দেশ্যে। টেবিলের উপর তার জন্যে নাস্তাটা পর্যন্ত রেডি করে রেখে গেছে আম্মু।

বাবা দ্রুত এসে গাড়ির সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। ইশতিয়াক যে গাড়ির পাশে দাড়িয়ে আছি সেটা যেন তিনি দেখতেই পায়নি। ইশতিয়াকের কিছুটা রাগ লাগলো তাতে। কিছুই না বলে তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল, আস্তে করে ডাকলো "বাবা" বলে। কিন্তু কোথায় কি? তার বাবা যেন সেই ডাক শুনতেই পায়নি, নিজের মনে রেডিয়েটারের পানির মাপ দেখছে। ওপাশে চেয়ে দেখলো তার আম্মু্ও গাড়ির দরজার সামনে দাড়িয়ে। আশ্চর্য! তাকে চিনতে না পারুক, অন্তত অপরিচিত একজনকে দেখে হ্যালো তো বলবেই। কিন্তু কিছুই না! তার বাবা-মা তো এমন স্বভাবের ছিল না। উল্টো মিশুক হিসেবেই পরিচিতি ছিল তাদের প্রতিবেশী মহলে।

এটা দেখে রেগে গিয়েই গলা চড়িয়ে মা'কে উদ্দেশ্য করে বেশ জোরেই বলল, "এই যে শুনছেন??"

ওমা! এতেও তার আম্মুর কোন ভাবান্তর নেই!! এটা কি করে সম্ভব!!! এবার রাগ সহ্য করতে না পেরে একেবারেই আম্মুর সামনে গিয়ে দাড়ালো। কিন্তু উনি ইশতিয়াককে ভেদ করেই যেন তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে। এইবার ইশতিয়াক আশ্চর্য না হয়ে পারলো না। ঘুরে দাড়াতেই গাড়ির দরজার পাশের আয়নায় চোখ পড়লো, নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না সে। এইটা কি করে হয়!!!!


আয়নায় শুধুই তার আম্মুকে দেখা যাচ্ছে। ইশতিয়াক তার সামনেই দাড়িয়ে, কিন্তু আয়নায় তার কোন প্রতিবিম্ব নেই। কিছুই নেই....!!!







_________________________
‗‗‗ ওদিকে এপার্টমেন্টে ‗‗‗
──────────────────



আশে পাশের এপার্টমেন্টের মানুষগুলো রাত করে প্রচুর শব্দ শুনতে পারছিল উদ্ভট ছেলেটার রুম থেকে। বিরক্ত হয়ে বেশ কয়েকবার করে দরজায় নক করে, ধাক্কা দিয়ে সাড়া না পেয়ে শেষে পুলিশ ডাকার ভয়ও দেখাচ্ছিল বাইরে দাড়িয়ে। তাতেও যখন কোন সাড়া দিচ্ছিল না ভেতর থেকে তখন একজন সত্যি সত্যিই পুলিশে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই এপার্টমেন্টের ভেতরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ হয় এবং প্রায় সাথে সাথেই পুরো এলাকাটা অন্ধকার হয়ে যায়।

এর কিছুক্ষন পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে রুমের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। একটা রুম থেকে ধোয়া বেরুতে দেখে ঐ রুমে গিয়ে বিস্ফোরণের উৎস দেখতে পায়। একটা টানেলের মত জিনিষের সাথে অনেক যন্ত্রযুক্ত ছিল। বিস্ফোরণটা ওখানেই হয়েছে। প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে, গলে গেছে প্লাস্টিকের মত জিনিষ ছিলো। প্রচণ্ড তাপে রুমের হার্ডবোর্ডের দেয়াল পর্যন্ত বেকে গেছে। কিন্তু সেই উদ্ভট ছেলেটাকে কোথাও পাওয়া যায় নি।

পুলিশের বিশেষ বিভাগের লোক এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুড়ে যাওয়া কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, আর টানেলে সংযুক্ত বিশেষ কিছু যন্ত্র পরীক্ষা করার জন্যে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এত বাজে ভাবে কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে কোন ডেটাই সেখান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


শেষ পর্যন্ত মানুষিক ভারসাম্যহীন হারানো ব্যক্তিদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল ইশতিয়াকের নাম।



────────────────────────────────────
♦ অতিমাত্রায় কাল্পনিক গল্প, তাই যুক্তিনির্ভর কোন ব্যাখ্যা এর থেকে প্রদান করা সম্ভব নয়।
Read More »
Sunday, August 10, 2014

Gmail এ Alias ও Filter তৈরি এবং তার ব্যবহার





Google আমাদের যে কয়েকটি সার্ভিস দিয়ে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা সার্ভিস হচ্ছে Gmail যা শুরুতে Google Mail নামে পরিচিত ছিল। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যে এটা উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যের একটি সার্ভিস। আর আমাদের মত অধিকাংশ ব্যবহারকারী একে Primary Mail হিসেবেই ব্যবহার করে। কিন্তু মাঝে মাঝে বিশেষ প্রয়োজনে Alias মেইলের প্রয়োজন দেখা দেয়।

আচ্ছা যদি এই একই মেইল এড্রেস ব্যবহার করে নতুন আরেকটা মেইল এড্রেসের সুবিধা নেয়া যায় তাহলে কেমন হয়?

হ্যাঁ, Gmail ও অন্যদের মত Alias মেইলের সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে একটু বিপত্তি হচ্ছে, তারা একেবারে নতুন নামে মেইল এড্রেস তৈরি করতে দেয় না। বরং আপনার মেইল এড্রেসটিতে কিছু অতিরিক্ত অক্ষর ব্যবহার করে Alias মেইল তৈরির সুবিধা দেয়।

ধরুন আমার বর্তমান মেইল এড্রেসটি হচ্ছে "contactkosor@gmail.com"। এখন এর যদি আমি Alias তৈরি করে চাই তাহলে আমাকে এর সাথে বিশেষ শব্দ বা অক্ষর যুক্ত করে alias তৈরি করতে হবে। আমি যদি এর সাথে "blogs" লেখাটা যুক্ত করে alias তৈরি করতে চাই তাহলে আমার নতুন মেইল এড্রেসটি হবে "contactkosor+blogs@gmail.com" এবং এটিই আমার Gmail এর নতুন alias মেইল।



Gmail এর Alias তৈরির পদ্ধতি :

ধাপ ১ : আপনার Google Mail একাউন্টটিতে Log in করুন। সম্পূর্ণ লোড হয়ে যাবার পর গিয়ার আইকনে ক্লিক করে মেনু থেকে Settings সিলেক্ট করুন।




ধাপ ২ : Setting পেইজ আসার পর উপরের দিকে Accounts and Imports ট্যাব দেখতে পাবেন। এটাতে ক্লিক করুন।



ধাপ ৩ : Accounts and Imports এর ভেতরে "Send mail as:" অংশে আপনার বর্তমান মেইল এড্রেসটি দেখতে পারবেন। এর নিচেই রয়েছে "Add another email address you own" লিংকটাতে ক্লিক করুন। একটা নতুন window আসবে পর্দায়।



ধাপ ৪ : নতুন Window টিতে দুটি বক্স রয়েছে। এর প্রথমটিতে আপনি আপনার Alias মেইলে যেই নাম দিতে চান সেটি লিখে দিন। যেমন আমার মূল মেইলের বিপরীতে নাম ছিল “কিশোর মাহমুদ” আর নতুন Alias মেইলে আমি নামটিকে দিতে চাই “কিশোর ব্লগার”। তাই আমি এখন Name লেখা বক্সে “কিশোর ব্লগার” লিখে দিবো। এরপর রয়েছে Email address নামের আরও একটা বক্স। এটাতে আপনি প্রথমে আপনার মেইল এড্রেসটি লিখুন। এখন “@gmail.com” এর পূর্বে একটি যোগ চিহ্ন ( + ) দিন। এখন আপনার Alias নামটি লিখুন। যেমন আমি আমার alias নাম হিসেবে ব্যবহার করবো “blogs”। আর তাতে আমার নতুন মেইল alias টি হবে “contactkosor+blogs@gmail.com”। এরপর Next Step বাটনে ক্লিক করুন।


পেইজ রিলোড হলেই দেখতে পারবেন আপনার বর্তমান মেইলটার নিচেই নতুন এড্রেসটি যুক্ত হয়ে গেছে।




এবার চলুন Alias মেইলটি ব্যবহার করে দেখি....

মেইল বক্সে ঢুকে Compose বাটনে ক্লিক করুন। এরপর নতুন মেইল ইডিটরে From এর বক্সে একটা ড্রপ ডাউনের তীর দেখতে পাবেন। সেটাতে ক্লিক করলেই আপনার বর্তমান মেইল সহ Alias মেইল গুলি লিস্ট আকারে দেখাবে। যে কোন একটা Alias মেইল সিলেক্ট করুন। এরপর যার কাছে মেইল পাঠাবেন তার এড্রেস, মেইলের বিষয়বস্তু, আর মেইলটি লিখে Send বাটনে ক্লিক করুন।


এরপর যাকে পাঠালেন তার ইন বক্সে আপনার alias মেইলটিকে মেইলিং এড্রেস হিসেবে দেখতে পাবে।



Mail Filter তৈরি করার পদ্ধতি: 

  • মেইল বক্স থেকে মেইল সেটিংসে ঢুকুন। এরপর Filters ট্যাবে ক্লিক করুন। পূর্বে থেকেই যদি কোন ফিল্টার তৈরি করা থাকে সেটা আপনি এখানেই দেখতে পারবেন। আর না থাকলে চিত্রের মত শূন্য দেখাবে।

  • এখন নতুন Filter তৈরি করার জন্যে " Create a new filter " বাটনটিতে ক্লিক করুন। একটা নতুন ফর্ম আসবে। এর From এর ঘরে আপনার নতুন তৈরি করা Alias মেইলটি লিখুন। এরপর "Create filter with this search" লেখাটিতে ক্লিক করুন।


এখানে Apply the label এর চেক বক্সে ক্লিক করে লিস্ট থেকে "New label...." সিলেক্ট করুন। 


  • নতুন ফর্মের প্রথম বক্সটিতে যে নামে লেভেল দিতে চান সেই নামটি লিখুন। যেমন আমি দিয়েছি "Blogs", এরপর Create বাটনে ক্লিক করুন।


  • পূর্বের ফর্মের "Never send it to Spam" এবং "Also apply filter to matching conversation" লেখার চেক বক্স গুলি সিলেক্ট করুন। তারপর Create filter বাটনে ক্লিক করুন।



ফিল্টার লিস্টে আপনার তৈরিকৃত ফিল্টারটি দেখতে পাবেন। আর সাইডে আপনার দেয়া নামে একটি লেভেলও দেখা যাবে।



এখন লেভেলটিতে ক্লিক করলেই আপনার alias মেইলে যতগুলি মেইল এসেছে তা আলাদা ভাবে দেখতে পারবেন। একের অধিক Alias মেইল থাকলে ফিল্টার তৈরি করে ব্যবহার করলে খুব সহজেই মেইল গুলি আলাদা ভাবে দেখা যায় এই পদ্ধতিতে।




নিজে চেষ্টা করে দেখুন। কোন সমস্যা হলে অবশ্যই জানাবেন, যথাসম্ভব দ্রুত রিপ্লাই দেবার চেষ্টা করবো।

সময় নিয়ে পোষ্টটি পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।















Read More »
 
;